চীনের নিশানায় ইউরোপীয় শিল্প

চীন তাদের পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনার লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করেছে সফলভাবে। ছবি : সংগৃহীত।
ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চীনের নতুন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা। সম্প্রতি বেইজিং তাদের পাঁচ বছর মেয়াদী যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, তা ইউরোপের দেশগুলোকে বাধ্য করছে নতুন করে ভাবতে।
দীর্ঘ সময় ধরে জার্মানির মতো দেশগুলো চীনের বাজারে পণ্য বিক্রি করে লাভবান হলেও এখন সেই চীনই ইউরোপের সমৃদ্ধির পথে দাঁড়িয়েছে বড় হুমকি হয়ে।
চীনের নতুন এই পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনায় জোর দেওয়া হয়েছে রাসায়নিক এবং যন্ত্রপাতির মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোর আধুনিকায়নের ওপর। এই খাতগুলো ব্যবহার করেই ইউরোপের বড় বড় কোম্পানিগুলো দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সম্পদ ও আধিপত্য ধরে রেখেছে। কিন্তু বেইজিং এখন নিজেই এসব পণ্যের উন্নত সংস্করণ তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে।
এ ছাড়া ইউরোপ যে ক্ষেত্রগুলোতে এখনো বিশ্বে এগিয়ে আছে, সেখানেও ভাগ বসাতে চাইছে চীন। রোবোটিক্স, বায়োমেডিসিন এবং নিউক্লিয়ার ফিউশন এনার্জির মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে বেইজিং।
গবেষণা ও উন্নয়নে পশ্চিমা দেশগুলোর সমান খরচ করার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটি। যা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চীনের এই উচ্চাভিলাষ কেবল কথার কথা নয়। অতীতে দেখা গেছে, চীন তাদের পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনার লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করেছে সফলভাবে। এর ফলে ইউরোপের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ঘাটতি দিন দিন বাড়ছে। যা ইউরোপের অনেক শিল্প খাতের জন্য দাঁড়িয়েছে অস্তিত্বের লড়াই হয়ে।
বিশেষ করে জার্মানির শিল্প উৎপাদন ২০১৭ সাল থেকে নিম্নমুখী, যা সৃষ্টি করেছে দেশটির অর্থনীতিতে গভীর উদ্বেগ।
জার্মানির গাড়ি শিল্পের অবস্থা এখন সবচেয়ে শোচনীয়। চীন বর্তমানে পরিণত হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে। ভক্সওয়াগন বা বিএমডব্লিউর মতো নামী ব্র্যান্ডের তুলনায় চীন অনেক সস্তায় উন্নত মানের ইলেকট্রিক গাড়ি বাজারে আনছে।
জার্মান যন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হান অটোমেশন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ফ্রাঙ্ক কনরাড চীনের এই অভাবনীয় পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেছেন। চীনে তার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম রয়েছে।
তিনি স্মৃতিচারণ করেন, এই শতাব্দীর শুরুর দিকেও চীনের একটি ট্রাক্টর কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে তার মনে হয়েছিল যেন কোনো পুরানো আমলের সিনেমা দেখছেন। কিন্তু বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
চীনের বর্তমান আত্মবিশ্বাসের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, চীনের মানুষ এখনো স্বীকার করে পোরশে একটি ভালো গাড়ি। কিন্তু তারা সরাসরি মুখের ওপর আপনাকে বলে দেবে, চীনের তৈরি বিওয়াইডি গাড়িতেও একই শক্তি রয়েছে। অথচ এর দাম পোরশের অর্ধেক।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেছেন, চীনের সঙ্গে এই বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা আর চলতে দেওয়া যায় না। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কীভাবে এর মোকাবিলা করবে, তা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
‘কেউ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছেন, আবার কেউ মুক্ত বাণিজ্যের মডেল ধরে রাখতে চাইছেন’, যোগ করেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
সূত্র : লুক্সেমবার্গ টাইমস।



