ভারতে কবরস্থানে উদ্ধার ৪১৪ গ্যাস সিলিন্ডার, আটক ১০

সংগৃহীত ছবি
ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম অনৈতিক উপায়ে বাড়ানোর চেষ্টা করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট করতে কবরস্থানেও গোপনে মজুদ করছে কিছু ব্যবসায়ী। এমনটা ঘটেছে প্রতিবেশী ভারতে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হায়দরাবাদের বাঞ্জারা হিলস এলাকার এক কবরস্থানে অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে ৪১৪টি গ্যাস সিলিন্ডার। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ২১ লাখ ৮০ হাজার রুপি। সিলিন্ডারগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০ জনকে। প্রায় তিনগুণ বেশি দামে সেই গ্যাস বিক্রি করা হতো।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার নাগার্জুনা এক্স রোডের পাশের কবরস্থানটিতে জুবিলি হিলস জোন টাস্কফোর্স ও বাঞ্জারা হিলস পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়।
অভিযানে ওই গোপন মজুদ ও সরবরাহ নেটওয়ার্কের হদিস মেলে। এখান থেকে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার মজুদ করে শহরে তিনগুণ দামে বিক্রি করা হতো। ভর্তি ও খালি সব মিলিয়ে ৪১৪টি সিলিন্ডার ও পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ও গ্যাস সরবরাহকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৪২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আমিরকে। এছাড়া মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ ইসমাইল, এ রামা রাও, লোক কুমার, মোহাম্মদ সকরুদ্দিন, মোহাম্মদ মুন্তাজ আনসারি, মোহাম্মদ মিনাজ আনসারি, রাজেশ পাল এবং রাম রাজ সিংকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা চালক, সরবরাহকারী ও শ্রমিক হিসেবে এই চক্রে কাজ করত।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আমিরের 'মেট্রো গ্যাস এজেন্সি' নামে একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ছিল যার গোডাউন শামশাবাদের মামিডিপাল্লেতে, অফিস আফজালগঞ্জে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে লাইসেন্স পেলেও তিনি বৈধভাবে পাওয়া বাণিজ্যিক সিলিন্ডারগুলো অবৈধ উপায়ে বিক্রির জন্য সরিয়ে ফেলতেন। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে শ্রমিকদের সহায়তায় সিলিন্ডারগুলো কবরস্থানে নিয়ে গিয়ে মজুদ করা হতো।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাইকারি সিলিন্ডার সংগ্রহ করাই ছিল চক্রটির মূল কৌশল। পুলিশ জানায়, আমির রেস্তোরাঁ মালিকদের বুঝিয়ে তাদের কাছ থেকে লিখিত আবেদনপত্র নিতেন, যেখানে দাবি করা হতো তারা হোস্টেল বা এতিমখানা চালাচ্ছেন। যাতে বেশি পরিমাণ সিলিন্ডার বৈধ উপায়ে কেনা যায়। এরপর ৫ কেজি থেকে ৪৭ কেজি ওজনের এই সিলিন্ডারগুলো সরিয়ে বিভিন্ন খাবারের দোকান ও ক্রেতাদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা হতো।
দামের পার্থক্য ছিল আকাশচুম্বী। ২ হাজার রুপি দামের ১৯ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি করা হতো ৬ হাজার রুপি পর্যন্ত। ৪ হাজার রুপির ৪৭ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হতো ৮ হাজারের বেশি রুপিতে। এমনকি ৫০০ রুপির ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারও ২ হাজার রুপি পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে। এই চক্রটি গত প্রায় দেড় বছর ধরে সক্রিয় ছিল।
পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, পাশের একটি মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক রাম সিংকে মাসে ৫ হাজার রুপি দেওয়া হতো, যাতে তিনি কবরস্থানে সিলিন্ডারগুলো রাখতে দেন। লোকচক্ষুর অন্তরালে এই জায়গাটিকে নিরাপদ গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
জব্দকৃত জিনিসের মধ্যে রয়েছে ৪৭ কেজির ৩০টি ভর্তি সিলিন্ডার, ১৯ কেজির ১৪৮টি ভর্তি এবং ১৯২টি খালি সিলিন্ডার, ৫ কেজির ৩৫টি ভর্তি ও ৯টি খালি সিলিন্ডার এবং বেশ কয়েকটি পরিবহন যান।

