পশ্চিমবঙ্গে কে হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, জানা যাবে রাতে

বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে শুক্রবার বেলা ১১টার পর কলকাতা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী তা নিয়ে চলছিলো আলোচনা। সেই জল্পনার অবসান হতে চলেছে আজ রাতেই। বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে হবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
বৈঠকে অংশ নিতে শুক্রবার বেলা ১১টার পর কলকাতা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিমানবন্দরে নামার পর তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীসহ রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের অনেকে।
সেখান থেকে তিনি চলে যান দক্ষিণেশ্বরে। মন্দিরে পূজা দিয়ে তিনি যাবেন নিউ টাউনের হোটেলে। দুপুরে বিশ্ব বাংলা কনভেশন সেন্টারে বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি।
বিজেপি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই বৈঠকেই নির্ধারিত হবে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর নাম। এরপর আর আগামীকাল শনিবার (৯ মে) ব্রিগেডের ঐতিহাসিক ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা।
দলটির অভ্যন্তরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কে হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী? যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো হয়নি। তবে দলের ভেতরে-বাইরে একটি নামই সবচেয়ে বেশি জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে, তিনি শুভেন্দু অধিকারী।
বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর জোরালো দাবিদার হওয়ার পেছনে রয়েছে এক অনন্য ইতিহাস। তিনি পরপর দুবার রাজ্যের দাপুটে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নির্বাচনী যুদ্ধে পরাজিত করেছেন।
২০২১ সালে নন্দীগ্রামে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে জয়ের পর এবারের নির্বাচনে মমতার নিজস্ব এলাকা ভবানীপুরে গিয়ে শুভেন্দু ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে তাকে হারিয়েছেন।
দলটির অভ্যন্তরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কে হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী? যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো হয়নি। তবে দলের ভেতরে-বাইরে একটি নামই সবচেয়ে বেশি জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে, তিনি শুভেন্দু অধিকারী।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো বিরোধী দলনেতা খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে তার নিজের ঘরে গিয়ে এভাবে দু-দুবার পরাজিত করছেন, এমন নজির বিরল। শুধু ভবানীপুর নয়, এবার জোড়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়ে নন্দীগ্রামেও তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে প্রায় ১০ হাজার ভোটে হারিয়েছেন শুভেন্দু।
ফলে দলের ভেতর থেকেই রব উঠেছে, এই ঐতিহাসিক জয়ের কাণ্ডারি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য শুভেন্দুই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। তবে চূড়ান্ত সিলমোহর দেবেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে আসা অমিত শাহ।
শনিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভোটপ্রচারে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নতুন সরকারের শপথের দিনে তিনি বাংলায় আসবেন। সেই কথা রাখতেই শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে দিল্লির পালম বিমানবন্দর থেকে বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে রওনা দেবেন তিনি।
সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর হেলিকপ্টারে আরসিটিসি হেলিপ্যাড হয়ে সড়কপথে তিনি পৌঁছাবেন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তিনি এই মেগা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নতুন সরকারের পথচলার সাক্ষী থাকবেন। অনুষ্ঠান শেষে বিকেলেই তিনি বিশেষ বিমানে দিল্লি ফিরে যাবেন।
সূত্র : দ্য ওয়াল।





