আগামীর সময়

বিধানসভা নির্বাচন

২৯১ প্রার্থী তৃণমূলের, মিত্ররা পেল ৩ আসন

২৯১ প্রার্থী তৃণমূলের, মিত্ররা পেল ৩ আসন

সংগৃহীত ছবি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৯১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি তিনটি আসন তারা ছেড়ে দিয়েছে অনীত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাকে (বিজিপিএম)। ‘মমতাপন্থী’ বলে পরিচিত অনীতের দল পাহাড়ে দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং থেকে এককভাবে লড়াই করছে। তাদের সমর্থন করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরা।

মঙ্গলবার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে তৃণমূল। এর মধ্যে ৫২ জন নারী প্রার্থী, যা প্রায় ১৮ শতাংশ। প্রার্থী তালিকায় এমন কয়েক জন রয়েছেন যারা কলকাতা পৌরসভার কাউন্সিলর। যেমন, দেবাশিস কুমার, রত্না চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, বিজয় উপাধ্যায়, অতীন ঘোষ প্রমুখ।

আবার অনেক বিদায়ী বিধায়ক আছেন, যারা এবার টিকিট পাননি। মোট ৭৪ জন পুরনো প্রার্থী বাদ পড়েছেন। তপশিলি জাতি ও উপজাতি মিলিয়ে ৯৫ জন প্রার্থী (৭৮ জন তপশিলি জাতি ও ১৭ জন তপশিলি উপজাতি) এবং ৪৭ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী জায়গা পেয়েছেন।

এদিন কালীঘাটের বাসভবন থেকে তালিকা প্রকাশের সময় কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তার বক্তব্যেই স্পষ্ট, এবারের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই যেমন তীব্র, তেমনই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও আছে গভীর অসন্তোষ।

সম্প্রতি কিছু আইপিএস কর্মকর্তাকে সরানো নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তার অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ‘দাঙ্গা লাগানোর অভিপ্রায়’। ঈদের আগে কেন এ ধরনের সিদ্ধান্ত— সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। বলছিলেন, বাইরে থেকে লোক এনে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, হরিয়ানা থেকে লোক আনা হচ্ছে।

এ সময় আরএসএস প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন মমতা। তিনি নতুন কিছু লোকের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের পুরনো সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

‘সবাইকে যদি সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে পানি, বিদ্যুৎ বা বিপর্যয়ের সময় পরিস্থিতি সামলাবে কে?’ প্রশ্ন রেখে মমতা মন্তব্য করেন, ‘২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২২৬টির বেশি আসন পেয়ে জয়ী হবে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিজেপি ‘হ্যাংলা’ হয়ে উঠেছে।’ বিজেপিকে বয়কট করে তিনি তৃণমূলকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।

এবার ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা (১৫২টি আসন) এবং আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা। ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

    শেয়ার করুন: