নতুন মুখ্যমন্ত্রী পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, আগে কারা ছিলেন?

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হয়ে গেল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার থাকা রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরেছেন বিপুল ব্যবধানে। দীর্ঘ ১৪ বছর ৩৫৩ দিন দায়িত্ব পালন করলেও রাজ্যের সবচেয়ে বেশি সময়ের মুখ্যমন্ত্রী নন মমতা। রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ২৩ বছর ১৩৭ দিন ক্ষমতায় ছিলেন জ্যোতি বসু।
ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত রাজ্যটির শীর্ষ পদ ছিল প্রধানমন্ত্রী। এরপর ১৯৫০-এর জানুয়ারি থেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ নাম চালু হয়। এখন পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেছেন আটজন।
পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন স্বাধীনতাসংগ্রামী ড. প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ। ব্রিটিশ ভারতের ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মালিকান্দা গ্রামের সন্তান তিনি। শর্তাধীন প্রাদেশিক আইনসভায় ৪২ দিন ও দ্বিতীয় দফায় প্রাদেশিক আইনসভায় দায়িত্ব পালন করেন ১৬০ দিন। ১৯৪৮-এর ২৩ জানুয়ারি দায়িত্ব নেন ড. বিধানচন্দ্র রায়। প্রাদেশিক আইনসভার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২ বছর ও পরে টানা ১২ বছর ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে। তারা দুজনই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন।
১৯৬২ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ৪ বছর ২৩৪ দিন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র সেন। খুলনা জেলার সেনহাটির এক বৈদ্যব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম তার। তিনিও নির্বাচিত হন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস থেকে। সর্বশেষ ১৯৬৭ সালের নভেম্বরে তৃতীয় দফা দায়িত্ব নেন প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ। এ দফায় তিনি ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র ৯০ দিন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে তিনবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়। তবে সেই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দীর্ঘ হয়নি তার কার্যকাল। ১৯৬৭ সালে প্রথমবার রাজ্যে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয় এবং মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন অজয়। এক বছরও স্থায়ী হয়নি সেই সরকার। এরপর অন্তর্বর্তী নির্বাচনেও জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। তবে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে করেন পদত্যাগ। নিজের সরকারকে আখ্যা দিয়েছিলেন ‘অসভ্যের সরকার’। তৃতীয় দফায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ৮৭ দিনের মধ্যেই পতন হয় তার সরকারের।
১৯৭২ সালে সপ্তম বিধানসভা নির্বাচনে জয় পায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নেন সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়। ৫ বছর ৪১ দিন ক্ষমতায় ছিলেন তিনি।
অষ্টম বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পায় বামফ্রন্ট। এরপর দলটি ক্ষমতায় থাকে টানা ৩৪ বছর। রাজ্যের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী) নেতা। ১৯৭৭ সালের ২১ জুন প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন জ্যোতি বসু। টানা পাঁচ মেয়াদে তার ক্ষমতার স্থায়িত্ব ছিল ২৩ বছর ১৩৭ দিন।
২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেন বামফ্রন্টের আরেক নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। টানা ১০ বছর ১৮৮ দিন ছিলেন দায়িত্বে। মেয়াদের শেষ দিকে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে সেটাই বুমেরাং হয়ে আসে তার জন্য। টাটা ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরির জন্য জোর করে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ ওঠে। এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে সদ্যবিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। এই আন্দোলনে নন্দিগ্রামে পুলিশের গুলিতে ১৪ জন নিহত হন, যাকে বলা হয় নন্দীগ্রাম গণহত্যা। আন্দোলন দমনে সরকারের ভূমিকার কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে তার সরকার।
যেই নন্দীগ্রামের ঘটনা পেরেক টুকে দেয় বামফ্রন্ট রাজনীতির কফিনে, সেটাই আশির্বাদ হয়ে আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য। নন্দীগ্রামে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মমতা চলে আসেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে ২০ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা নেন তিনি। এরপর আরও দুই দফা জিতে প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর।




