নির্বাচনে বিশাল জয়ের পর জোটসঙ্গী খুঁজছে থাই প্রধানমন্ত্রীর দল

সংগৃহীত ছবি
থাইল্যান্ডে সোমবার রক্ষণশীল রাজনীতিতে পুনর্বিন্যাস দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের ভুমজাইথাই পার্টি প্রত্যাশার চেয়ে বড় ব্যবধানে সাধারণ নির্বাচনে জয় পেয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে নি তারা। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রবিবারের ভোটের ৯৪ শতাংশ গণনা শেষে ভুমজাইথাই পার্টি প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেকটাই ছাড়িয়ে যায়। ৫০০ আসনের সংসদে দলটি পেয়েছে ১৯২টি আসন।
ভোটের আগে কিছু জরিপে এগিয়ে থাকা পিপলস পার্টি পেয়েছে ১১৭টি আসন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ফেউ থাই পার্টির দখলে এসেছে ৭৪টি আসন। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, অন্য কয়েকটি দল মিলিয়ে সংসদের বাকি ১১৭টি আসন পেয়েছে। তবে থাইল্যান্ডের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দলীয় তালিকা থেকে আসনসংখ্যার চূড়ান্ত হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।
ভুমজাইথাই পার্টি মোট ভোটের ৩০ দশমিক ২ শতাংশ পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয়তাবাদী আবেগের উত্থানের পর দলটি রক্ষণশীল ভোট একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং একসময় প্রভাবশালী, ধনকুবের সিনাওয়াত্রা পরিবারের নিয়ন্ত্রিত ফেউ থাই পার্টির কাছ থেকে একাধিক আসন ছিনিয়ে নিয়েছে।
জোট গঠন ও মন্ত্রিসভা নিয়োগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আনুতিন রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি চূড়ান্ত সংখ্যার বিষয়ে স্পষ্টতা আসার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে প্রতিটি দলকে নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ আলোচনা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি পুনর্নির্বাচিত হলে অর্থ, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রীরা নতুন মন্ত্রিসভায়ও তাদের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
আনুতিন ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনেরও কম সময়ের মাথায় গত ডিসেম্বরে নির্বাচন ঘোষণা করেন। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে তিন সপ্তাহের সংঘাত থেকে সৃষ্ট জাতীয়তাবাদী আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন তিনি। নির্বাচনের ফলাফলকে তিনি ‘সব থাই জনগণের বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
বামঘেঁষা পিপলস পার্টি ইতোমধ্যেই আনুতিনের নেতৃত্বাধীন কোনো জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছে। দলের নেতা নাত্থাফং রুয়াংপান্যাওয়ুত রবিবার রাতে জানান, তারা কোনো বিকল্প জোট গঠনের চেষ্টাও করবে না।
জানুয়ারির শেষ দিকে করা জরিপগুলোতে ভুমজাইথাই পার্টির তুলনায় পিপলস পার্টিকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রাখা হয়েছিল।
এ ছাড়া ভোটাররা সংবিধান পরিবর্তনের একটি প্রস্তাবের পক্ষেও সমর্থন দিয়েছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার ২০১৪ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রণীত সংবিধানটি বাতিলের পক্ষে মত দেন। সমালোচকদের মতে, ওই সংবিধান অগণতান্ত্রিক সিনেটকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই প্রক্রিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটাতে সহায়ক হতে পারে।
নতুন সংবিধান বাস্তবায়নে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত সংবিধান অনুমোদনের জন্য আরও দুটি গণভোট প্রয়োজন হবে।

