শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

সংগৃহীত ছবি
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত অবসানে এক চাঞ্চল্যকর ও সুদূরপ্রসারী শান্তি প্রস্তাব দিয়েছেন ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। বর্তমানে কোনো সরকারি পদে না থাকলেও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাবকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
জারিফের শান্তি প্রস্তাবের প্রধান ৫টি শর্ত
১. পারমাণবিক অঙ্গীকার : ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে কঠোর অঙ্গীকার করবে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩.৬৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হবে।
২. আঞ্চলিক কেন্দ্র গঠন : চীন ও রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে এ অঞ্চলে একটি অভিন্ন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। ইরান তার সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও সরঞ্জাম সেখানে সরিয়ে নেবে।
৩. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার : যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ইরানকে সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
৪. হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা : ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে। তবে বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকেও এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহারের সমান সুযোগ দিতে হবে।
৫. অনাক্রমণ চুক্তি : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি আনুষ্ঠানিক ‘অনাক্রমণ চুক্তি’ সই করবে, যেখানে দুই দেশ ভবিষ্যতে একে অপরকে আক্রমণ না করার অঙ্গীকার করবে।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেত ছাড়া জারিফ এমন নিবন্ধ প্রকাশ করতে পারতেন না। বর্তমান সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের জয়েও তার বড় ভূমিকা ছিল।
তবে এই প্রস্তাবে মার্কিন প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ জারিফ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারকে ভূ-রাজনীতি ও পারমাণবিক বিষয়ে ‘একেবারে মূর্খ’ বলে মন্তব্য করেছেন। অথচ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেও এই দুজনই ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছিলেন।

