সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, যুদ্ধ কি শুরু হচ্ছে

তেহরানের একটি ভবনে হরমুজ প্রণালিতে জাল দিয়ে যুদ্ধবিমান শিকার সম্পর্কিত গ্রাফিক ডিজাইনের বিলবোর্ড। ছবি : রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়পক্ষই স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। শনিবার সর্বশেষ মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এমন খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরানি বন্দরে চলমান মার্কিন নৌ-অবরোধ আরও কয়েক মাস প্রতিহত করতে পারার সক্ষমতা রাখে তেহরান।
এক মাস আগে শুরু হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর উভয়পক্ষ একাধিক দফায় আলোচনা করলে আসেনি কোনো সমাধান। তবে স্থায়ী চুক্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন সম্প্রতি তেহরানকে প্রস্তাব দিয়েছিল। যেখানে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরানকে হরমুজে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিবৃতিতে প্রত্যাশা করেছিলেন, শুক্রবার ইরানিরা তাদের জবাব দেবে। কিন্তু তা ঘটেনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এদিন বলেছেন, মার্কিন প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং যথাসময়ে এর জবাব দেওয়া হবে।
তার ভাষ্য, আমেরিকান রাজনীতিবিদদের ঠিক করে দেওয়া সময়সীমার কোনো মূল্য তেহরানের কাছে নেই; আমরা আমাদের নিজেদের কাজ করি এবং সময়সীমা বা চরমপত্র নিয়ে মাথা ঘামাই না।
এতটা সময় লাগার অন্যতম কারণ হিসেবে বাঘাই উল্লেখ করেন, এটি একটি অত্যন্ত জটিল কাজ। যেসব ইরানি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছেন, তারা ওই প্রস্তাবের প্রতিটি তারিখ ও শব্দ নিয়ে উদ্বিগ্ন। দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে একমত হতে হবে।
এরমধ্যে শুক্রবার মার্কিন মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন করে আক্রমণের শিকার হয়েছে। যদিও ইরান দায় অস্বীকার করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সূত্রের খবর, তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। ইরানের ওপর চাপ তৈরি করতেই এ পদক্ষেপ।
শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ তেহরানের শাহেদ ড্রোন তৈরিতে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কাঁচামাল সংগ্রহে ইরানের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার দায়ে চীন ও হংকংয়ের বেশ কয়েকজনসহ ১০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ইরানের অবৈধ বাণিজ্যে সমর্থনকারী যেকোনো বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত এবং চীনের স্বাধীন তেল শোধনাগারগুলোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানসহ বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।
সূত্র : আলজাজিরা ও রয়টার্স



