আগামীর সময়

ইরাক উপকূলে দুই জ্বালানি ট্যাংকারে হামলা ইরানের

ইরাক উপকূলে দুই জ্বালানি ট্যাংকারে হামলা ইরানের

সংগৃহীত ছবি

ইরাকের উপকূলে দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরান। এর পর থেকে ইরাকের সব জ্বালানি বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর কার্যক্রম আগের মতোই সচল রয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বৃহস্পতিবার বন্দর কর্মকর্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো জানায়, বিস্ফোরকবোঝাই নৌকা দুটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়। এতে ট্যাংকার দুটিতে আগুন ধরে যায়। হামলায় একজন ক্রু নিহত হয়েছেন। এর আগে উপসাগরীয় জলসীমায় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়।

ইরাকের জেনারেল কোম্পানি ফর পোর্টসের প্রধান ফারহান আল-ফারতুসির বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, একটি ট্যাংকারে জ্বালানি পণ্য ভরার কাজ চলার সময় সেটি হামলার শিকার হয়। আর হামলার শিকার ছোট ট্যাংকারগুলোর একটি মাল্টার পতাকাবাহী ছিল। জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে এটি সরাসরি হামলা নাকি দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরকবাহী বোটের (সুইসাইড বোট) মাধ্যমে ঘটানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আক্রান্ত হওয়ার সময় ট্যাংকারগুলো ইরাকি উপকূল থেকে প্রায় ৩০ মাইল বা ৪৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস কোম্পানি আইজি গ্রুপের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলছেন, তেলের দাম কমাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জরুরি তেলের মজুত থেকে বিশ্ববাজারে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান এই হামলা চালিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

এর আগে বুধবার তেল ব্যবহারকারী প্রধান দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত সংস্থা আইইএ সদস্যরা বিশ্ববাজারে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে একমত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছিলেন, আইইএর সিদ্ধান্ত ‘আমেরিকা এবং বিশ্বের জন্য এই হুমকির অবসান ঘটানোর সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে।’

তবে এরপরও বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখনো ব্যরেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কারণ বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয় যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে, সেখানে জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারবে এমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

    শেয়ার করুন: