আগামীর সময়

হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক করতে প্রস্তুত ৬ দেশ

হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক করতে প্রস্তুত ৬ দেশ

প্রতীকী ছবি

জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে পদক্ষেপ নেবে বলে ইউরোপের শীর্ষ দেশগুলো এবং জাপান বৃহস্পতিবার জানিয়েছে। এ ছাড়া তারা উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ খুলে দিতে ‘উপযুক্ত উদ্যোগে’ অংশ নেবে বলেও জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করার পর এই ঘোষণা আসলো।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারেএ রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি কাতারএনার্জি জানানোর পর তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব সামাল দিতে বড় অর্থনীতির দেশগুলো দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। এই হামলা ছিল ইসরায়েলের ইরানের একটি বড় গ্যাসক্ষেত্রে বোমা হামলার প্রতিক্রিয়া।

রাস লাফান বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করে। একই সময়ে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলে অবস্থিত প্রধান বন্দরও হামলার শিকার হয়েছে, যেখান থেকে ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে বিকল্প পথে কিছু রপ্তানি চালানো হচ্ছিল।

এই নির্ভুল হামলাগুলো দেখিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানের জবাবে ইরান এখনো বড় ধরনের ক্ষতি করার সক্ষমতা রাখে। এতে করে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে।

এ ছাড়া যুদ্ধ শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহ পরও কৌশল ও লক্ষ্য নিয়ে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলেও এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ‘অপরিবর্তিত, নির্ধারিত পথে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী’ এগোচ্ছে।

ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপানের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ‘তাৎক্ষণিক ও পূর্ণাঙ্গ হামলা স্থগিতের’ আহ্বান জানান।

তারা বলেছেন, ‘প্রণালির মধ্য দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে আমরা উপযুক্ত উদ্যোগে অংশ নিতে প্রস্তুত।’

তারা আরও উল্লেখ করেন, ‘জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমরা অন্যান্য পদক্ষেপ নেব, যার মধ্যে উৎপাদন বাড়াতে কিছু উৎপাদক দেশের সঙ্গে কাজ করাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’

    শেয়ার করুন: