লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ পুতিন, দাবি জেলেনস্কির

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চার বছর আগে যে লক্ষ্য নিয়ে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছিলেন তা অর্জনে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি ভলোদিমির জেলেনস্কির।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, চার বছর আগে ইউক্রেন দখলে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে হামলা চালিয়েছিলেন পুতিন। কিন্তু তার এ লক্ষ্য পূরণ হয়নি। একইভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে অন্য যে লক্ষ্যগুলো অর্জন তিনি করতে চেয়েছিলেন সেগুলোও রয়ে গেছে অধরা।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকীতে ভিডিও ভাষণে এসব কথা বলেছেন মস্কোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়া জেলেনস্কি। তার মতে, একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য ইউক্রেন সম্ভাব্য ‘সবকিছু’ করতে প্রস্তুত ছিল।
পুতিনের ব্যর্থতার হিসাব দিতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেছেন, পুতিন তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেননি। তিনি ইউক্রেনকে ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি এ যুদ্ধে জয়ও পাননি।
‘আমরা ইউক্রেনকে রক্ষা করছি। শান্তি এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সবকিছু করব’, যোগ করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বহুবার শান্তি আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এতে কোনো সমাধান আসেনি।
সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দেশ দুটির মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে আলোচনা কার্যকর কোনো ফল বয়ে আনবে এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
রাশিয়া হামলা চালিয়ে কিছুদিনের মধ্যে ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন দখলে নেয়। পরবর্তীতে গণভোটের মাধ্যমে অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যদিও এই গণভোটকে পাতানো বলে অভিযোগ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
পুতিনের দেশের আগ্রাসনের কারণে ইউক্রেনের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যারা দেশে রয়েছেন তাদের অবস্থাও শোচনীয়। কেননা, মস্কোর হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায়ই বিদ্যুৎ সেবার বিঘ্ন ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার হতাহতের (নিহত, আহত ও নিখোঁজ) সংখ্যা ১২ লাখের মতো।
সংস্থাটির মতে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অন্তত ৩ লাখ ২৫ হাজারের মতো রুশ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের হতাহতের সংখ্যা পাঁচ থেকে ছয় লাখ। এরমধ্যে ১ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজারের মতো সেনা নিহত হয়েছেন।
তবে যুদ্ধে অবকাঠামোগতভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউক্রেন। দেশটি পুনর্গঠনে আনুমানিক ৫৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লাগতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় কমিশন ও ইউক্রেনীয় সরকার।
সূত্র: আলজাজিরা

