খামেনির মৃত্যুর পাঁচদিন পর ভারতের শোক

ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব
অবশেষে ধোঁয়াশা কাটল। পাঁচদিন পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করল নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বিষয়টি নিশ্চিত করলেন। এত দিন পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করলেও নয়াদিল্লির তরফে ইরানের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
এদিন মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে একটি পোস্ট করেন রনধীর জয়সওয়াল। তাতে লিখেছেন, ‘সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ভারতের জনগণ ও সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি ইরান ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসে গিয়ে শোকপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।’
ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন বিক্রম মিশ্রি, এরকম একটি ছবিও শেয়ার করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
তিনি জানিয়েছেন, দুপুরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে তা অবশ্য জানা যায়নি। অবশ্য এস জয়শঙ্কর ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু হয়েছে শনিবার ভোরে। রবিবার সেই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তেহরান। কিন্তু পুরনো মিত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে নরেন্দ্র মোদির সরকার তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে দেশের মধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়ে মোদির সরকার।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পরে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোনে কথা বলেছেন। বার্তা দিয়েছেন পাশে থাকার। তবে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নিন্দা করে কোনো বার্তা দেয়নি নয়াদিল্লি।
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাব দিতে গিয়ে একাধিক দেশের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব, কুয়েতে আছড়ে পড়েছে ইরানের ড্রোন। যত দিন যাচ্ছে সংঘাত বাড়ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী কিছু দিন আগে ইসরায়েলে গিয়েছিলেন। তার সফর শেষের পরেই হামলা হয় ইরানে। ফলে বিরোধীরা ভারতের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছিল।

