৭ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ৫শর বেশি ইরানি আটক

গত বছরের শেষ সাত মাসে দেশটিতে ৫০০ জনেরও বেশি ইরানি নাগরিককে আটক করেছে আইসিই
২০২৫ সালের জুনে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি নাগরিকদের ওপর ব্যাপক হারে বেড়েছে ধরপাকড়।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্যের বরাতে ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল (এনআইএসি) জানিয়েছে, গত বছরের শেষ সাত মাসে দেশটিতে ৫০০ জনেরও বেশি ইরানি নাগরিককে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)।
এনআইএসির তথ্যমতে, গত বছরের জুনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সময় বড় ধরনের তল্লাশি ও গ্রেপ্তার অভিযান চালায় মার্কিন ইমিগ্রেশন বিভাগ। কেবল জুন মাসেই ২২০ জন এবং জুলাই মাসে আটক করা হয় ৮০ জন ইরানিকে।
২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইসিইর বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন মোট ৫৭৭ জন ইরানি।
আটক হওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় দেখা গেছে বয়সের ভিন্নতা। বন্দিদের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তির বয়স ৭৭ বছর। অন্যদিকে, সবচেয়ে কমবয়সী এক শিশুর বয়স মাত্র পাঁচ বছর।
আটক হওয়া ৫৭৭ জনের মধ্যে সাতজন যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। তাদের ক্ষেত্রে পুরনো কোনো অপরাধের অভিযোগ সামনে এনে দেখানো হয়েছে আটক। তবে অনেক ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বৈধভাবে বসবাসকারী ইরানিদের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করে দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
গত এপ্রিলে ১৯৭৯ সালের ইরান জিম্মি সংকটের এক নেতার ছেলে সৈয়দ ঈসা হাশেমি, তার স্ত্রী ও সন্তানের গ্রিন কার্ড বাতিল করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। হাশেমি ইরানের সাবেক রাজনীতিবিদ মাসুমেহ এবতেকারের ছেলে।
কেবল ইরানি নয়, যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে মার্কিন অভিবাসন বিভাগ।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত গ্রিন কার্ডধারী মহসেন মাহদাওয়ির বিরুদ্ধেও নির্বাসন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত বছর নাগরিকত্বের ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে আইসিইর হাতে আটক হয়েছিলেন তিনি।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই



