আগামীর সময়

ট্রাম্পের ১৫ শর্তের বিনিময়ে ইরান কী পাবে?

ট্রাম্পের ১৫ শর্তের বিনিময়ে ইরান কী পাবে?

সংগৃহীত ছবি

চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘সঠিক ব্যক্তিদের’ সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। ট্রাম্প দাবি করেন, উভয় পক্ষই ‘এই মুহূর্তে আলোচনায় রয়েছে’। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে, বিশেষ করে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে কঠোর পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা, আঞ্চলিক কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যদিও এই প্রস্তাব মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধলক্ষ্যের প্রতিফলন, তবুও আশঙ্কা রয়েছে যে সব শর্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগেই একটি প্রাথমিক ‘ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি’ দ্রুত সম্পন্ন করা হতে পারে।

যা আছে ১৫ দফা শর্তে

• ইরানকে তার বিদ্যমান পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করতে হবে।

• ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

• ইরানের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

• ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ)-এর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

• নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলতে হবে।

• আইএইএকে ইরানের ভেতরে পূর্ণ প্রবেশাধিকার ও নজরদারির সুযোগ দিতে হবে।

• আঞ্চলিক প্রক্সি নীতি পরিত্যাগ করতে হবে।

• প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন, নির্দেশনা ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।

• হরমুজ প্রণালি সব সময় উন্মুক্ত ও মুক্ত নৌপথ হিসেবে রাখতে হবে।

• ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে হবে (পরিসর ও সংখ্যা উভয় ক্ষেত্রে)।

• ভবিষ্যতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি কেবল আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে।

বিনিময়ে ইরান যা পেতে পারে

• আন্তর্জাতিক সব নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হবে।

• বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দেবে।

• শর্ত ভঙ্গ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা বাতিল করা হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাব একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর চূড়ান্ত চুক্তির দিকে যাওয়ার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

তবে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে। ইরান আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একই সঙ্গে অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা ও প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েল এই শর্তগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, চূড়ান্ত শর্ত নির্ধারণের আগেই যদি যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়, তাহলে ইরান কার্যত সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যেতে পারে।


    শেয়ার করুন: