গৃহবধূ থেকে উদ্যোক্তা, মৌ চাষে মিনার্ভার সাফল্যগাথা

পরিশোধিত মধু উৎপাদনে খাগড়াছড়ির মিনার্ভা এক সাফল্যের নাম
খাগড়াছড়ির পাহাড়ি এলাকায় মৌ চাষে উদ্যোক্তা মিনার্ভা চাকমা। স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করেও বহু জায়গায় চাকরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। পরে নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে মৌ চাষে যুক্ত হন এবং গ্রহণ করেন প্রশিক্ষণ।
সদর উপজেলার নারানখিয়ে গ্রামের এই গৃহবধূ প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে মৌ চাষে যুক্ত থেকে এখন একজন সফল মৌ উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। শুরুটা ছিল সীমিত পরিসরে, কিন্তু ধীরে ধীরে পরিশ্রম ও অভিজ্ঞতায় তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বড় মৌ চাষ প্রকল্প।
বর্তমানে মিনার্ভা নিজেই মৌমাছি পালন, পরিচর্যা, মধু সংগ্রহ, পরিশোধন, বোতলজাতকরণসহ পরিচালনা করেন সব কাজ। চার বছর আগে একটি সহায়ক সংগঠনের দেওয়া আধুনিক মধু পরিশোধন যন্ত্র বাড়িয়ে দেয় তার উৎপাদন সক্ষমতা। এর পর থেকে তিনি বাজারজাত করতে পারছেন বিশুদ্ধ ও মানসম্মত মধু। তার উৎপাদিত মধুর ব্র্যান্ডের নাম ‘গোল্ডেন ড্রপস’, যা তিনি কেজিপ্রতি বিক্রি করেন ১ হাজার ৮০০ টাকায়।
নিজের উৎপাদনের পাশাপাশি তিনি মধু পরিশোধন করে দেন অন্য মৌ চাষিদের। বর্তমানে খাগড়াছড়িতে বড় পরিসরে মধু উৎপাদনে অন্যতম সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তার নাম ডাক শোনা যায় সর্বত্র।
মিনার্ভা জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত উৎপাদন করেছেন ১০০ কেজির বেশি মধু এবং মৌসুম শেষে তা ১৫০ কেজির বেশি হতে পারে। বর্তমানে তার কাছে রয়েছে ১৮টি মৌ বক্স। যেগুলো দিয়ে তিনি নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছেন উৎপাদন। চাহিদা বেশি হওয়ায় সবসময় দিতে পারেন না সরবরাহ।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ফুল ও ফলের বাগান সমৃদ্ধ এলাকা মৌ চাষের জন্য উপযুক্ত। তবে কীটনাশকের ব্যবহার বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে মৌমাছির জন্য। কীটনাশক প্রয়োগের আগে তথ্য জানা গেলে মৌমাছি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়।
ব্যাংকার স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে সংসার সামলেও মিনার্ভা এখন একজন স্বাবলম্বী নারী উদ্যোক্তা। তিনি মত দেন, ধৈর্য ও একাগ্রতা থাকলে লাভজনক হতে পারে এই পেশা ।



