চট্টগ্রামে ১১ লাখ শিশু পাচ্ছে হাম-রুবেলার টিকা

চট্টগ্রামে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে বিশেষ ‘জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’
চট্টগ্রামে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে বিশেষ ‘জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন’। সারা দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এর আওতায় চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এলাকায় প্রায় ১১ লাখ শিশুকে করা হয়েছে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ।
আজ রবিবার দুপুরে দুপুরে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
সংবাদ সম্মেলনে হামের বর্তমান পরিস্থিতি ও টিকাদান কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেছেন, আগামীকাল সকাল ৯টায় সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকার এসএম পাইলট স্কুলে করা হবে এ ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন । উপজেলাগুলোতে টিকা দেওয়া হবে ৪ হাজার ৮১৫টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৯২৫ জন শিশুকে। এ কার্যক্রম চলবে ১০ মে পর্যন্ত।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মহানগরীর ৪১টি ওয়ার্ডকে ৭টি জোনে ভাগ করে ৩ লাখের বেশি শিশুকে দেওয়া হবে টিকা, যা চলবে ২০ মে পর্যন্ত।
সিভিল সার্জন জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে আনা হবে এ টিকার আওতায়।
নিবন্ধিত শিশুদের সঙ্গে আনতে হবে টিকার কার্ড, তবে নিবন্ধন না থাকলেও প্রদান করা হবে টিকা। পথশিশু, বস্তিবাসী ও ভাসমান শিশুদের জন্য কাজ করবে আলাদা ‘মপআপ টিম’ জানাচ্ছিলেন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত এ টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তাই গুজবে কান না দিয়ে অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার আহ্বান জানান সিভিল সার্জন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ৪১৩টি নমুনা পরীক্ষায় ৪১ জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে হামের সংক্রমণ এবং মৃত্যু হয়েছে একজনের। আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এবার চালু করা হয়েছে অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের পরবর্তী জটিলতা যেমন নিউমোনিয়া ও মারাত্মক ডায়রিয়ার কারণে তৈরি হয় শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি। বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের ঝুঁকি বেশি থাকায় তাদের পুষ্টিকর খাবার ও মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর ওপর করা হয় গুরুত্বারোপ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, ডা. শিব্বির আহমেদ প্রিন্স, ডা. নুরুল হায়দার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসআইএমও ডা. জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।



