৬ কোটি টাকার চিংড়ি রেনু উদ্ধার, কর্ণফুলীতে অবমুক্ত

৬ কোটি টাকার রেনু জব্দের পর নদীতে অবমুক্ত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছে অবৈধ বাগদা চিংড়ির রেনু।
প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের এই রেনু উদ্ধার করতে অভিযান চালায় কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগ। পরে এসব রেনু কর্ণফুলী নদীতে করা হয়েছে অবমুক্ত।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কর্ণফুলী থানার শাহ আমানত সেতু এলাকায় করা হয় যৌথ অভিযান পরিচালনা। এ সময় দুটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ চিংড়ির রেনু।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানাচ্ছিলেন, টেকনাফ থেকে রেনুগুলো নেওয়া হচ্ছিল খুলনার উদ্দেশ্যে। ড্রামের ভেতরে করে এসব রেনু করা হচ্ছিল পরিবহন। চিংড়ীর সাথে আটক চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মুচলেকা নিয়ে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়টি চিংড়ির প্রজনন মৌসুম। এ সময় নিষিদ্ধ মশারি জাল, বেহুন্দি জাল ও সূক্ষ্ম জালের মাধ্যমে রেনু সংগ্রহ করা হলে শুধু চিংড়িই নয়, অন্যান্য ছোট জলজ প্রাণীরও ক্ষতি হয়, যা হুমকি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য।
জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, কক্সবাজারের টেকনাফ এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা ও সীতাকুণ্ড উপকূলে সবচেয়ে বেশি রেনু শিকার হয়। সংগৃহীত এসব রেনু মূলত খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলের চিংড়ি ঘেরে সরবরাহ করা হয়, যেখানে চাহিদা বেশি বাগদা চিংড়ির।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেছেন, গত চার বছরে একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ রেনু জব্দের ঘটনা এই প্রথম। এভাবে অবাধে রেনু শিকার চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সাগর-নদীতে চিংড়ির প্রাচুর্য কমে যেতে পারে মারাত্মকভাবে।
মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, নদীর মোহনা ও সমুদ্র উপকূল থেকে চিংড়ির রেনু আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘন করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা ১ থেকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা বিধান রয়েছে উভয় দণ্ডের।
এ পরিস্থিতিতে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ সাগর ও নদীর উপকূল এলাকায় নজরদারি করা হয়েছে আরও জোরদার।



