৭ ঘণ্টা ভুগিয়ে এলএনজি সরবরাহ শুরু

সংগৃহীত ছবি
দেশ জুড়ে জ্বালানি সংকট। এরই মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ ছিল ৭ ঘণ্টা। কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দুটি। কারিগরি ত্রুটি দেখা যায় একটিতে। পরে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে বন্ধ থাকে সরবরাহ। সোমবার পর্যন্ত দুটি টার্মিনাল থেকে এক দিনে এলএনজি সরবরাহ হয়েছে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। মঙ্গলবার সকাল থেকে সেই সরবরাহ নেমে আসে ৫৬১ মিলিয়ন ঘনফুটে।
এলএনজি সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নামায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা ও চট্টগ্রামের ভারী শিল্পাঞ্চলগুলোতে। তবে কোনো কারখানা বন্ধের খবর মেলেনি। পুনরায় এলএনজি টার্মিনাল চালু হয়েছে আজ দুপুর ১টার দিকে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘মঙ্গলবার দুটি টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ করার কথা ছিল ৯৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। কারিগরি ত্রুটির কারণে একটির সরবরাহ বন্ধ সকাল ৬টা থেকে। ত্রুটি সারিয়ে গ্যাস সরবরাহ চালু হয় দুপুর ১টা থেকে। শিডিউল অনুযায়ী, দুটি টার্মিনালের ৯৬০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করতে সময় লাগতে পারে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।’
কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা দিনে ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং দেশীয় সামিট গ্রুপের টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আমদানীকৃত তরল এলএনজি বিশেষায়িত জাহাজের মাধ্যমে আনা হয় গভীর সমুদ্রের এ টার্মিনালগুলোতে। যেখানে তরল গ্যাসকে পুনরায় বায়বীয় অবস্থায় রূপান্তর করা হয়। এরপর মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম হয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় পাইপলাইনের মাধ্যমে।
বাংলাদেশে বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৫৭০ থেকে ২ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ সরবরাহের মধ্যে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট আসে আমদানীকৃত এলএনজি থেকে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশীয় গ্যাসফিল্ড ও আমদানীকৃত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটসিএল)। দিনে শিল্প, বিদ্যুৎ, ভারী শিল্প ও আবাসিক খাতে রেশনিং উপায়ে গ্যাস সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন ডিভিশন) মো. নজরুল ইসলাম বলছিলেন, ‘ভাগ্যিস, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়েছিল সকালে। বিকেলে পিকআওয়ারে হলে আমাদের বড় বিপদে পড়তে হতো। সকালে নন-পিকআওয়ার। বিদ্যুতের চাহিদা কম। তাই পড়তে হয়নি সংকটে। বিকেল থেকেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক।’
সরকারিভাবে সংকটে না পড়ার কথা বলা হলেও, গ্যাসের জন্য কমেছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন। ফলে সকালে বেড়েছিল লোডশেডিং।
খোদ সরকারি ‘তিতাস গ্যাস কোম্পানি’ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গ্যাসের এ ঘাটতির কথা জানিয়েছে মঙ্গলবার সকালেই। তাদের মতে, তিতাস গ্যাসের আওতাধীন গজারিয়া, মেঘনা ঘাট, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলে গ্যাসের চাপ কমে বেড়েছিল জনভোগান্তি। শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল উৎপাদনেও।



