নতুন তফসিলে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন!

দেশের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃত্ব নির্বাচনে কাটতে শুরু করেছে নয়মাসের অচলাবস্থা। ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সালিশি ট্রাইব্যুনাল বাতিল করেছে বর্তমান নির্বাচনী তফসিল। নতুন তফসিলে নির্বাচন আয়োজনে রায় প্রদান করেছে ট্রাইব্যুনাল।
তবে এই রায়ের কার্যকারিতা এবং নির্বাচনের ভবিষ্যৎ আগামী ২৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ চেম্বার আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সর্বশেষ ৪ এপ্রিল এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর স্থগিত হয়ে গিয়েছিল নির্বাচন।
গতকাল বুধবার এফবিসিসিআই সালিশি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম, সদস্য ছায়েদ আহম্মদ ও এ.এস.এম. কামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চূড়ান্ত আদেশে নতুন তফসিলে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জানান। রায়ে নির্দেশ আছে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সবপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে নতুন বিধি-বিধান অনুযায়ী পুনরায় তফসিল প্রণয়নের।
এখন নতুন তফসিলে নির্বাচন হবে কিনা সেটি নির্ভর করছে ২৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ চেম্বার আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। সেদিন সুপ্রিম কোর্টের চার সদস্যের চেম্বার আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন। এই চেম্বার আদালতই ২৬ এপ্রিল শুনানির আগে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে এফবিসিসিআই সালিশি ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা মেনে ২২ এপ্রিল বর্তমানে থাকা নির্বাচন তফসিল বাতিল করে রায় দেন নতুন তফসিলের।
এই রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’ এর দলনেতা চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এস. এম. নুরুল হক।
তার ভাষ্য, স্রোতের বিপরীতে গিয়ে এই জয় হয়েছে। এটা ব্যবসায়ীদের ইচ্ছার প্রতিফলন। আশা করছি, উচ্চ আদালত এই রায় আমলে নিয়ে নতুন তফসিল দেবেন। আর নতুন তফসিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যেই জিতবে সেই নেতৃত্ব দেবে চেম্বারে।
আর ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের প্রার্থী এবং গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বারভিডার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান আগামীর সময়কে বললেন, ‘আমরা তৃণমূল ব্যবসায়ী ভোটাধিকারের পক্ষে লড়াই করছি। মামলা-মোকদ্দমা করে প্রশাসক দিয়ে চেম্বার পরিচালনার পক্ষে নই।’
রায়ে বর্তমান তফসিল বাতিলের ব্যাখ্যাও দিয়েছে এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনাল। বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলটি বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না। পাশাপাশি ওই তফসিলের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তাই এর কোনো কার্যকারিতা নেই। ট্রাইব্যুনালের মত হচ্ছে, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের সব পদে সরাসরি ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও চট্টগ্রাম চেম্বারের তফসিলে তা লঙ্ঘন করা হয়েছিল। তাই ত্রুটিপূর্ণ তফসিলের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা হবে ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের জন্য ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে। এরপর থেকে মামলা-মোকদ্দমা জটিলতায় পড়ে অন্তত পাঁচবার স্থগিত হয় চেম্বার নির্বাচন।
ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ অংশ নিচ্ছে। একটি এফবিসিসিআই এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক নেতা আমিরুল হকের নেতৃত্বে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম এবং অন্যটি বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। দুটি প্যানেলের টানাপোড়েন হচ্ছে চেম্বারের ট্রেড এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ঘিরে।
এই টানাপোড়েনের কারণে বিষয়টি উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত, এমনকি এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন পর্যন্ত গড়িয়েছে। আটমাস ধরে টানাপড়েনের পর এখন আসল নতুন তফসিলে নির্বাচনের রায়।



