ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ ভেড়াতে বন্দরের বিশেষ আয়োজন

সংগৃহীত ছবি
আজ রবিবার সকাল ১১টা থেকেই বন্দরের প্রবেশপথ মোহনা থেকে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পর্যন্ত নৌপথে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা। দুটি জাহাজকে তিনটি করে টাগবোট পাহারা দিচ্ছে। আরো আশপাশে বাড়তি টাগবোট রাখা হয়েছে স্ট্যান্ডবাই। এ দুটি জাহাজ ভিড়বে তাই রবিবার সকালে বন্দরের নির্ধারিত শিডিউলের জাহাজগুলোর আগেভাগেই বার্থিং শেষ। একই সময় সাধারণ জাহাজের চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বন্দর ভবনের ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা ভিটিএমএস থেকে ক্যামেরার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল তদারকি করছেন বন্দর নৌ বিভাগের কর্তারা।
এই বিশেষ নিরাপত্তা ‘মায়েরস্ক চট্টগ্রাম’ এবং ‘এইচআর তুরাগ’ এর জন্য। বঙ্গোপসাগরের বহির্নোঙর থেকে কর্ণফুলী নদীর তীরে বন্দর জেটিতে ভেড়ানো উপলক্ষে। অর্থাৎ ধাক্কা খাওয়া দুটি ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজাকে নিরাপদে জেটিতে ভেড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থার এই মহা আয়োজন। বন্দরের নৌ বিভাগ, বার্থ অপারেটর ও শিপিংলাইনের প্রায় ৪০ জন অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করা হয়। নিকট অতীতে এভাবে জাহাজ ভেড়ানোর নজীর নেই বললেই চলে। কারণ, একসঙ্গে দুটি পণ্যবাহী জাহাজ বহির্নোঙরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও নেই।
স্বাভাবিক সময়ে এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কিন্তু দুটি জাহাজই শুক্রবার সকালে বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার আগে পরস্পরের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল স্বাভাবিকভাবে দুটি জাহাজ জেটিতে আনা সম্ভব ছিল না। তাই বিশেষ বিবেচনায় অনুমতি নিয়ে জাহাজ দুটি ভেড়ানোর এ আয়োজন।
কারণ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের উপ-সংরক্ষক ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলাম বলছেন, ‘দুটি জাহাজেই অনেকগুলো আমদানি কন্টেইনার শুক্রবার থেকে আটকা পড়েছিল। বেশিদিন আটকে থাকায় আমদানিকারকের উদ্বেগ বাড়ছিল। আবার বহির্নোঙরে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে কন্টেইনার স্থানান্তরের সুযোগ নেই। দুদিন আটকে থাকায় দেশের অর্থনীতির ক্ষতি বিবেচনায় আমরা বিশেষ বিবেচনায় জাহাজদুটি জেটিতে আনার সিদ্ধান্ত নিই।’
গত শুক্রবার সকালে জাহাজ দুটি আমদানি কন্টেইনার নিয়ে বহির্নোঙর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে পরস্পর ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর রবিবার সকাল পর্যন্ত জাহাজ দুটি সেখানেই ছিল। রবিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ‘মায়েরস্ক চট্টগ্রাম’ এবং ‘এইচআর তুরাগ’ বন্দরের এনসিটির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর মালিকানাধীন কর্ণফুলী গ্রুপের জাহাজ হচ্ছে ‘এইচআর তুরাগ’। সেটি চালাচ্ছিলেন, ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মোহাম্মদ কামরুল আলম ও মোহাম্মদ তানভীর রহমান।
জাহাজের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মোহাম্মদ কামরুল আলম জানাচ্ছিলেন, ‘১১টা ৬ মিনিটে বহির্নোঙর থেকে রওনা দিয় ১২টা ৫০ মিনিটেই আমরা জাহাজ জেটিতে নিরাপদে ভিড়াতে পেরেছি। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা ধীরগতি যেমন ৬ থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চালাতে হয়েছে।’
‘মায়েরস্ক চট্টগ্রাম’ হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং কম্পানি মায়ের্সক লাইনের। চালাচ্ছিলেন বন্দরের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আতাউল হাকিম সিদ্দিকী। তিনি জানাচ্ছিলেন, ঝুঁকি এড়াতে বন্দরের নৌ বিভাগ বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাহাজ দুটি চালিয়ে আনছে। প্রতি জাহাজেই আমরা দুজন পাইলট নিয়েছি। আমার সঙ্গেই আছেন পাইলট আবুল খায়ের। আশা করছি দুপুর ১টা২৫ মিনিটে জাহাজ জেটিতে নিরাপদে ভিড়েছে। এতে অন্তত ৪০ মিনিট বেশি সময় লাগছে। বৈরি আবহাওয়া এবং উত্তাল সাগরের মধ্যে দেশের আমদানিকারকের স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ।
‘মায়েরস্ক চট্টগ্রাম’ জাহাজে ১৮৭৮ কন্টেইনার বক্স আমদানি পণ্যভর্তি আছে। আর ‘ইচআর তুরাগ’ আছে এক হাজার একক কন্টেইনার। দুটি জাহাজই আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার নামিয়ে জেটি ছাড়বে। কিন্তু রপ্তানি কন্টেইনার বোঝাই করবে না। কারণ দুটি জাহাজই এখন সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার অনুমতি নেই।
জাহাজ পরিচালনাকারীরা বলছেন, জাহাজ ডকইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে মেরামত করা হবে। তদন্ত কমিটির অনুমোদন, ক্ষতি নিরুপন এবং সমুদ্রপাড়ি দেয়ার অনুমতি সনদ পাওয়ার পরই জাহাজে রপ্তানি কন্টেইনার বোঝাই করতে পারবে।



