আগামীর সময়

জ্বালানি সংকটে সমুদ্রে মাছ ধরা ব্যাহত, আয় কমেছে জেলেদের

জ্বালানি সংকটে সমুদ্রে মাছ ধরা ব্যাহত, আয় কমেছে জেলেদের

ছবিঃ আগামীর সময়

কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষা ফিশারি ঘাট কিংবা পতেঙ্গা উপকূল— চট্টগ্রামের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যাঞ্চলে এখন অস্বাভাবিক নীরবতা। বছরের এই সময়ে ইলিশ মৌসুমকে ঘিরে যেখানে জেলেদের ব্যস্ত থাকার কথা, সেখানে শত শত ট্রলার ঘাটে নোঙর করে আছে। কারণ জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। মাছ ধরতে সাগরে যেতে পারছেন না কয়েক হাজার জেলে।

মাছ ধরা কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চট্টগ্রাম শহরের পাইকারি ও খুচরা মাছের বাজারে। সব রকমের সামুদ্রিক মাছ কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা। এ সংকট অব্যাহত থাকলে জেলেদের কর্মহীন ও বাজারে মাছের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

লতিফপুর মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি লিটন জানান, ফিশিং ট্রলারগুলো সমুদ্রে গিয়ে ইলিশ বা বড় সামুদ্রিক মাছ শিকার করে। সাধারণত ১০-১৫ দিনের ট্রিপে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার লিটার ডিজেল লাগে। সাগরে অবস্থানকালে দীর্ঘ সময় ট্রলারের ইঞ্জিন চালু রাখতে হয় এবং মাছ টাটকা রাখতে হিমায়িত ব্যবস্থা বা প্রচুর বরফের প্রয়োজন হয়, যার জন্য জ্বালানি খরচ বেশি। উপকূল থেকে কিছুটা দূরে মাঝারি গভীরতায় ফিশিং ট্রলারে একবার ট্রিপে যেতে সাধারণত ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল লাগে। আর ছোট ট্রিপে সাধারণত ৩০০ থেকে ৭০০ লিটার ডিজেল লাগে। বর্তমানে জ্বালানি সংকটে গভীর শিপিংয়ে যেতে পারছে না ট্রলারগুলো। তাদের বাধ্য হয়েই মাছ ধরতে হচ্ছে ছোট ট্রিপে। এতে বেশি খরচ করে কম মাছ ধরে চলে আসায় আর্থিক ক্ষতিতে পড়তে হচ্ছে ট্রলার মালিকদের।

ফিশিং ট্রলার মালিকরা বলেছেন, স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাট (পাথরঘাটা) থেকে প্রতিদিন ছোট-বড় মিলিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায় প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ট্রলার। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি সংকট ও ব্যয় বাড়ায় অনেক কমে গেছে এ সংখ্যা। অনেক ট্রলার মালিক লোকসানের আশঙ্কায় বসিয়ে রেখেছে নৌযান।

ফিশিং ট্রলারগুলো সাধারণত দুটি উপায়ে জ্বালানি সংগ্রহ করে থাকে। একটি হলো সরকারি তেল কোম্পানির ডিলারদের কাছ থেকে। আরেকটি কর্ণফুলী নদীতে থাকা নিবন্ধিত ভাসমান পাম্প বা বার্জ থেকে সরাসরি তেল নেওয়া। তবে বর্তমানে উভয় ক্ষেত্রেই ঘাটতি।

পতেঙ্গা উপকূলের জেলে বাদল জলদাসের আক্ষেপ, ‘অনেক বছর ধরে মাছ ধরি, কিন্তু এমন পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। তেল না থাকলে ট্রলার চলে না, আর ট্রলার না চললে আয়ও হয় না।’

খুচরা মাছ ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ট্রলার চলাচল কমে যাওয়ায় কমে গেছে মাছ আহরণও।

ফইল্লাতলি বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আসলামের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে ফিশারি ঘাটে কমে এসেছে দৈনিক লেনদেনও। মাছের অভাবে অনেক বরফকল বন্ধ হওয়ার উপক্রম। মাছ আহরণ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নগরীর খুচরা বাজারগুলোতে।

চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ির মাছ বিক্রেতা হামিদ হোসেন জানান, সাগরের মাছের প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা করে বেড়েছে। জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে দাম হয়তো আরও বাড়বে। খুচরা বাজারে ৮শ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১৩শ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২২শ টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশ কেজি ২৪শ টাকা।

জ্বালানি তেলের সংকট সরাসরি প্রভাব ফেলছে সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে। অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকা ডিজেল চালিত। জ্বালানি সংকটে তারা যেতে পারছে না সমুদ্রে। ফলে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে ঘাটে বসে থাকছেন, যার কারণে তাদের দৈনিক আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

    শেয়ার করুন: