আগামীর সময়

রংপুর মেডিক্যালে মরেও শান্তি নেই!

রংপুর মেডিক্যালে মরেও শান্তি নেই!

ছবিঃ আগামীর সময়

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের হিমঘর যেন এক নীরব প্রতিবাদের জায়গা। যেখানে মৃত্যুর পরও কমে না ভোগান্তি। হিমঘরে বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকা ফ্রিজের কারণে মরদেহ সংরক্ষণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্বজনদের। আর বেওয়ারিশ লাশগুলোর ক্ষেত্রে সেই দুর্দশা যেন আরও নির্মম।

ফ্রিজ অচল থাকায় মরদেহগুলো পলিথিনে পেঁচিয়ে বরফ দিয়ে ট্রলিতে রাখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পরে থাকার ফলে অনেক ক্ষেত্রে পচন ধরছে, ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে শুধু স্বজনদের জন্য নয়, মর্গের আশপাশ দিয়ে চলাচল করাও হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। এমন অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ জন রোগীর মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে বেওয়ারিশ বা মামলা-সংক্রান্ত অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু হাসপাতালের নিচতলার পশ্চিম কোণে অবস্থিত হিমঘরের চারটি ফ্রিজই পাঁচ বছর ধরে অচল থাকায় সেই সংরক্ষণ কার্যত অমানবিক অবস্থায় চলছে।

আরও জানা যায়, কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যে ফ্রিজগুলো মেরামতের ব্যবস্থা নিলেও তা স্থায়ী সমাধান হয়নি। কিছুদিন সচল থাকার পর আবারও নষ্ট হয়ে পড়ে। ফলে বর্তমানে বিকল্প হিসেবে বরফ ব্যবহার ছাড়া কোনো উপায় থাকছে না।

গত ১৫ মার্চ অসুস্থতাজনিত কারণে কবি ও সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান নিজামীর মৃত্যু হলে তার মরদেহও এই হিমঘরের ট্রলিতে পলিথিনে পেঁচিয়ে রাখতে হয়। বিষয়টি দেশব্যাপী সমালোচনার জন্ম দেয় এবং হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার চিত্র নতুন করে সামনে আসে।

এ বিষয়ে কবি ধ্রুবক রাজ জানান, কবি ও সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান নিজামী মারা গেলে তার মরদেহ রাখতে গিয়ে দেখা যায় হিমঘরের সব ফ্রিজ নষ্ট। পরে বাধ্য হয়ে বরফ কিনে মরদেহ সংরক্ষণ করতে হয়। দু’দিনে দুইবার বরফ আনতে হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও এমন অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ঢাকা থেকে মরদেহ নিতে আসা কবি ও সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান নিজামীর এক স্বজনের ভাষ্য, সাধারণ মানুষের সুষ্ঠু চিকিৎসা এখনো অধরা। এই হাসপাতালে মরেও শান্তি নেই।

হাসপাতালের কর্মচারী সেলিম হোসেন কামাল জানান, হিমঘরের ফ্রিজগুলো অনেক পুরোনো, প্রায়ই নষ্ট থাকে। এ কারণে অনেক মরদেহ বরফ দিয়ে রাখা হয়। তারপরও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, পোস্টমর্টেমের জন্য মরদেহ কলেজের ফ্রিজে রাখা হয়। তবে বেওয়ারিশ ও মামলাসংক্রান্ত মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরেই রাখতে হয়। ফ্রিজগুলো কয়েকবার মেরামত করা হলেও বারবার বিকল হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে নতুন ফ্রিজের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

দ্রুত সময়ের মধ্যেই হিমঘরের এই সংকটের সমাধান করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

    শেয়ার করুন: