আগামীর সময়

জ্বালানি তেল সংকটে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

জ্বালানি তেল সংকটে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

ছবিঃ আগামীর সময়

টাঙ্গাইলে জ্বালানি তেলের সংকটে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের অভাবে নিয়মিত সেচ দিতে না পারলে বোরো ধান হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন কৃষক।

দেলদুয়ার উপজেলার কৃষক আব্দুল আলীম জানান, ডিজেল তেলের কৃত্রিম সংকটের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে পারছি না। সকাল থেকে দীর্ঘ সময় তেলের পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ দুই লিটারের বেশি ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে সেচ মেশিন চালানো কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

দেলদুয়ার উপজেলার সুবর্ণতলী এলাকার কৃষক আবেদ আলী বলেছেন, সেচের মালিক জমিতে সময়মতো পানি দিতে না পারায় বোরো ধান ক্ষেতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তিনি দ্রুত এ সংকট নিরসনের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তার কথায়, বোরো ধান চাষে ঠিকমতো সার-বীজসহ যাবতীয় খরচ করে এখন যদি পানির অভাবে জমির ফলন নষ্ট হয়, তাহলে যে ক্ষতির মুখে পড়বেন সেটি শোধরানোর মতো নয়।

এদিকে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন ফিলিংস্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনেরও সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালক ও সাধারণ যানবাহন ব্যবহারকারীরা। অনেক পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চালকরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও নির্দিষ্ট সীমার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না ।

মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুর রহমানের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অল্প পরিমাণ তেল পেয়ে তারা কর্মস্থলে যাতায়াত করতে পারছেন না। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করছেন। তাই দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

অন্যদিকে সেলিমপুর পাম্পের কর্তৃপক্ষ রানা ইসলাম বলেছেন, তেল গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি ডিপো থেকে পাচ্ছি না। যার ফলে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছি না।

দেলদুয়ার উপজেলার সেলিমপুর গ্রামের সেচের মালিক হোসেন আলী জানান, জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় আবাদি জমির কৃষক এবং সেচের মালিকরা আতঙ্কে আছেন।

তিনি মনে করেন, যানবাহনের অকটেন এবং পেট্রোলের যে পরিস্থিতি পাম্পে গিয়ে দেখা যায় তাতে ব্যাপকভাবে আতঙ্কে সেচের মালিকসহ কৃষকরা।

সুবর্ণতলীর আসলাম মিয়ার ভাষ্য, চলমান এ সংকট কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তার মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

দেলদুয়ার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এস এম ফেরদৌস আহমেদ জানান, টাঙ্গাইলে দেলদুয়ার উপজেলায় বেশকিছু সেচ রয়েছে। সেসব সেচের প্রতি নজরদারি রাখছি। কারণ কৃষকের কপালে বর্তমানে চিন্তার ভাঁজ রয়েছে। কৃষক সব সময় তেলের এই কৃত্রিম সংকট নিয়ে হাটে-ঘাটে বাজারে সব জায়গায় তাদের একটি আলোচনা ধান চাষ নিয়ে। তাই প্রশাসন থেকে শুরু করে সবারই নজরদারি রয়েছে।

বর্তমানে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তেল মজুদ বা কারসাজি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথী।

কৃষকের জন্য আলাদাভাবে পেট্রোল পাম্পে বলা আছে জানিয়ে ইউএনও বলেছেন, এখন পর্যন্ত সেচের মালিকরা আমার কাছে অভিযোগ করেননি। তবে তারা বোরো ধান চাষে তেলের কৃত্রিম সংকটে আতঙ্কে।

    শেয়ার করুন: