কামড় দেওয়া রাসেল ভাইপারকে নিয়ে হাসপাতালে যুবক

সংগৃহীত ছবি
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ভয়ংকর বিষধর রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপের আতঙ্ক।
গতকাল সোমবার মেঘনা নদীর পাড়ে পাতা জাল থেকে সাপ উদ্ধারের সময় কামড় খেয়ে আহত হয়েছেন এক যুবক। পরে কামড় দেওয়া সাপটিকে নিয়েই হাসাপাতালে অ্যান্টিভেনম নিতে যান তিনি।
আহত যুবক স্থানীয় উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের এখলাসপুর আবাসন এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল (৩১)।
তার ভাষ্য, সকালে নতুন বাড়িতে যাওয়ার পথে, মেঘনার পাড়ে পাতা এক জালে সাপ আটকে থাকতে দেখেন তিনি। সাপটি ছটফট করায় উদ্ধার করতে গেলে তার হাতে কামড়ে দেয়। তবুও সাহস করে সাপটিকে ধরে পলিথিন ব্যাগে ভরে নিয়ে আসেন বাড়িতে। পরে প্লাস্টিকের বয়ামে করে দ্রুত চাঁদপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে নেন অ্যান্টিভেনম। সবশেষ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে এসেছেন তিনি, বর্তমানে সুস্থ আছেন বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানাচ্ছিলেন, গত কয়েক বছর ধরে মেঘনা নদীর পাড় ও চরাঞ্চল বিশেষ করে বোরচর, চর উমেদ ও এখলাসপুর এলাকায় বিষধর সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত বছরও এখলাসপুর নদীর পাড়ে পাওয়া গিয়েছিল বেশ কয়েকটি রাসেল ভাইপার। সে-সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তেন রোগীরা। তাই দ্রুত পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে এখলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলছেন, ‘সামনে বর্ষা মৌসুম, তাই কৃষক ও জেলে ভাইদের থাকতে হবে আরও বেশি সতর্ক। যদি কাউকে সাপে কামড় দেয়, তাহলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক নয়, তাৎক্ষণিকভাবে যেতে হবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।’
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহবুবুর রহমান জানালেন, ‘হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। একজন সাপে কাটা রোগীকে প্রথম ধাপে দিতে হয় ১০টি ভেনম। প্রয়োজনে দেওয়া হয় আরও ১০টি। প্রতিটি ভেনমের দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। বর্তমানে প্রায় ২০০টি ভ্যাকসিন সংগ্রহে রেখেছি আমরা।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনিরের ভাষ্য, উপজেলা পরিষদ থেকে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন কেনার লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ।
উদ্ধার হওয়া রাসেল ভাইপার সাপটির বিষয়ে বনবিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।



