খোয়াই নদের বাঁধ ভাঙনে হাওরে হাহাকার, দিশেহারা কৃষক

ছবি: আগামীর সময়
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে চারটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক হাওরে ঢুকছে পানি। এতে পাকা বোরো ধান তলিয়ে হাজারো কৃষকের দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার শতমুখা এলাকায় নদীর উত্তর পাড়ের বাঁধের একটি অংশ প্রবল স্রোতে ভেঙে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভাঙন অন্তত ৫০ ফুটে বিস্তৃত হয়। এতে ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ হাওরে দ্রুত শুরু করে পানি ঢুকতে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার মধ্যেই প্রায় ২৬০ হেক্টর জমি তলিয়ে যায় পানিতে। প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে শতমুখা, পুববিলা, আন্দারআব্দা, পঁচাবিল, ভুট্টুক, খালপাড়, সিঙ্গারবিল, কালীবাড়ির ঢালি, মাইজের কান্দা, আউডাতৈল, চন্ডিপুর, হাঘা ও সুজাতপুরসহ একাধিক হাওর। এসব এলাকায় শত শত কৃষকের হাজারো বিঘা জমিতে ছিল পাকা ধান।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, জমির ধান ছাড়াও কেটে খোলায় রাখা ধানও ভেসে গেছে পানিতে। শতমুখা গ্রামের পাভেল খান চৌধুরী জানান, তিনি প্রায় ১০০ মণ ধান খোলায় রেখেছিলেন, যা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে পানিতে। তার ভাষ্য, অর্ধশতাধিক হাওরের হাজারো কৃষক এখন পড়বেন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহেদ আলী বলছিলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাওরগুলো আগেই ছিল পানিতে পূর্ণ। কৃষকরা অপেক্ষায় ছিলেন পাকা ধান কাটার। কিন্তু এখন জমি তলিয়ে যাওয়ায় শ্রমিকরাও আর কাটতে পারছেন না ধান। ফলে খোরাকির জন্য যে সামান্য ধান তোলার আশা ছিল, সেটিও হয়ে গেছে শেষ।
বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ, বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন ঘটনাস্থল। এ সময় বিকল্প পানিপ্রবাহের জন্য নদীর বিপরীত পাশে বাঁধ কেটে দেওয়ার পাশাপাশি মাটি ও জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙা অংশ দ্রুত মেরামতের নেওয়া হয় সিদ্ধান্ত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানালেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় ২৬০ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে পানিতে। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের কাজ করা হবে শুরু।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, জেলায় এ বছর ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো হয়েছে আবাদ। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টন ধান উৎপাদনের।
অতিরিক্ত উপপরিচালক দীপক কুমার জানান, এখনো প্রায় ৪৯ শতাংশ ধান বাকি রয়েছে কাটার। বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে আরও। প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমি তলিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এমনটি।



