আগামীর সময়

কক্সবাজারের ৪ আসনের পোস্টাল ভোট ২৮ হাজার ৬৩০

কক্সবাজারের ৪ আসনের পোস্টাল ভোট ২৮ হাজার ৬৩০

সংগৃহীত ছবি

ব্যাপক প্রচারণা সত্ত্বেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে পোস্টাল ভোট পড়েছে ২৮ হাজার ৬৩০টি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসী এবং দেশে অবস্থানরত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা এসব পোস্টাল ভোট দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পোস্টাল ভোট কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইরফান উল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আগামীর সময়কে তিনি জানান, এবারই প্রথম নির্বাচন কমিশন (ইসি) দেশে এবং দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসী ও চাকরিজীবীদের পছন্দের প্রার্থীকে পোস্টাল ভোট দেওয়ার ব‍্যবস্থা করেছে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে পোস্টাল ভোটার অ্যাপসে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে ভোটাররা। কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে সর্বশেষ ২৮ হাজার ৬৩৩ জন পোস্টাল ভোটার ভোট দিয়েছেন। তবে তারা কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন তা বিস্তারিত জানা যাবে ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টার পর।

পোস্টাল ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ইরফান উল হাসান জানান, এবার কক্সবাজার-১ (চকরিয়া, পেকুয়া) আসনে পোস্টাল ভোট পড়েছে ৯ হাজার ৬৩৫টি, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী, কুতুবদিয়া) আসনে পোস্টাল ভোট পড়েছে ৪ হাজার ২১২টি, কক্সবাজার-৩ (কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনে পোস্টাল ভোট পড়েছে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯১৭টি এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া, টেকনাফ) আসনে পোস্টাল ভোট পড়েছে ৩৮৬৬টি।

এদিকে কক্সবাজারের চারটি আসনে পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে কক্সবাজারে ইনডোর স্টেডিয়ামে। ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকে। ভোটগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং সহায়ক কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ভোটের আদলে এ ভোট গণনা করা হবে। শুধুমাত্র সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার পোস্ট বাদ দিয়ে এক্ষেত্রে সহায়ক কর্মকর্তাগণকে ভোট গণনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফান উল হাসান বলেন, প্রতি ৩০০ ভোটের জন্য একজন করে সহায়ক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। চারটি সংসদীয় আসনের জন্য একজন প্রিসাইডিং অফিসার, ১৫ জন পোলিং কর্মকর্তার জন্য একজন সহায়ক কর্মকর্তা, নির্দিষ্ট সংখ্যক পোলিং এজেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই ব্যালট বক্স খোলা হবে। এর আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্ক্যানারের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে পোস্টাল ভোটগুলো ছাড় করবেন। এরপর প্রিজাইডিং অফিসারের সহায়তায় ভোটগুলো গণনা করে আসনভিত্তিক প্রার্থীদের দেওয়া হবে। হ্যাঁ ভোটের জন্যও আলাদা পোস্টাল ব্যলট গণনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটকেন্দ্রের শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য কেন্দ্রগুলো সিসিটিভির আওতায় আনা হবে। ভোট গণনার সময় প্রার্থী নিজে অথবা এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে গণনা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন।

এবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষ করে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর ওমানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসীরা এবং দেশের অভ্যন্তরে চাকরিজীবী, কারাগারের আসামিরা প্রথম পোস্টাল ভোট দিয়েছেন। তবে কোন দেশ থেকে কত সংখ্যক ভোট এসেছে তা জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের ইতিহাসে পোস্টাল ভোটের মাধ‍্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

    শেয়ার করুন: