প্রবাসীর স্ত্রীর আলমারিতে লুকিয়ে ছিলেন স্কুলের দপ্তরি

আলমারির ভেতর আটক দপ্তরি
গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ঢুকে আলমারির ভেতরে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় মো. আজাদ শেখ (৩৫) নামে এক স্কুল দপ্তরিকে আটক করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আজাদ শেখ বড় খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয়রা জানান, প্রবাসীর স্ত্রীর সন্তানের মাধ্যমে আজাদের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার রাতে তিনি ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে আলমারির ভেতর থেকে তাকে আটক করা হয়।
৫৫ সেকেন্ডের ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, খালি গায়ে আজাদ শেখ আলমারির ভেতরে লুকিয়ে আছেন। স্থানীয় কয়েকজন তাকে বের করার চেষ্টা করছেন এবং উপস্থিত অনেকে ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আটক করার পর তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে আর্থিক সমঝোতায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রবাসীর স্ত্রী বলেছেন, পাশের বাড়িতে মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। পরে বাড়িতে ফিরে ঘরের ভেতরে আজাদ শেখকে দেখতে পান। এ সময় প্রতিবেশীরা বাড়ি ঘিরে ফেললে আতঙ্কে তিনি আলমারিতে লুকিয়ে পড়েন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইরন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং বিষয়টি ভিত্তিহীন।
বড় খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদা খান লিমা জানান, আজাদ শেখ অসুস্থতার কথা বলে ছুটির আবেদন করেছিলেন, যা মঞ্জুর করা হয়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সালথা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তামেম উদ্দিন জানান, বিষয়টি তার জানা আছে। তিনি প্রশিক্ষণ শেষে অফিসে ফিরে ঘটনাটি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারে।



