আগামীর সময়

পর্যটকের ভিড়ে কাটল সিলেটের ‘শনির দশা’

পর্যটকের ভিড়ে কাটল সিলেটের ‘শনির দশা’

ঈদের ছুটিতে সিলেটে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। ছবি: আগামীর সময়

বহুদিন পর সিলেটের পর্যটন ব্যবসা যেন সুদিনের দেখা পেলো। সেই করোনাকাল থেকে শুরু। এরপর সিলেটের পর্যটনে সুদিন ফিরে আসেনি। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা একে ‘শনির দশা’ হিসেবেই আখ্যায়িত করেছিলেন। আশায় ছিলেন এবার সেই দশা কাটবে। হয়েছেও তা-ই।

উপচেপড়া পর্যটকে মুখর সিলেটের সবগুলো পর্যটন কেন্দ্র। হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সবার মুখে চওড়া হাসি। এবার ঈদকেন্দ টন ব্যবসা শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে এমনটিই তারা ধারণা করছেন।

সিলেটের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছেন। ঈদের আগেই বেশিরভাগ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে যায়। ঈদের দু-দিন আগ থেকেই পর্যটকরা সিলেট আসতে শুরু করেন। ঈদের পরদিনও অনেকে সিলেটে এসেছেন। ছুটি শেষে অনেকে ফিরে গেলেও নতুন করে পর্যটকরা আসছেন। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঈদের ছুটি শেষ হয়ে গেলেও গত তিনদিনের তুলনায় আজ পর্যটকের সংখ্যা আরও বেড়েছে।

ঈদের ছুটিতে সিলেটের সাদাপাথর, লালাখাল, জাফলং এবং বিভিন্ন চা-বাগানে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে ঈদের দিন থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। সীমান্তঘেষা এই পর্যটন স্পটের নৌঘাট থেকে শুরু করে সাদাপাথরের মূল পয়েন্ট পর্যন্ত সবখানেই ছিল মানুষের আনাগোনা। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আসা পর্যটকেরা কেউ স্বচ্ছ নীল জলে সাঁতার কেটেছেন, কেউবা ছবি তুলছেন।

ঢাকা থেকে আসা আরাফাত ইসলাম নামের এক পর্যটক বলেছেন, ‘ ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতেই সিলেট আসা। এখানে পাহাড় আর স্বচ্ছ নীল জলের পাথর মুগ্ধ করেছে।’

এবার জাফলংয়ে সবচেয়ে বেশি পর্যটক ঘুরতে এসেছেন। এ ছাড়াও বিছনাকান্দি ও জলাবন রাতারগুলেও ছিল পর্যটকদের ভিড়।

পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও বেশ সন্তুষ্ট। হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, নৌকা ও পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট খাতে জমে উঠে ব্যবসা। ঈদকে ঘিরে দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে ভালো ব্যবসার মুখ দেখেছেন তারা।

ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরের ব্যবসায়ী আহমদ সোহেল জানান, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকায় এবারের ঈদে পর্যটকদের আগমন ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মানুষ স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পেরেছেন, যা পর্যটন খাতকে করেছে আরও প্রাণবন্ত।’

কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফি সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বললেন, ‘২০২৪ সাল থেকে আন্দোলনের পর আন্দোলন থাকায় ভোলাগঞ্জে পর্যটকদের আগমন ছিল তুলনামূলকভাবে কম। এবার গত দুই বছরের তুলনায় দ্বিগুণ পর্যটক এসেছে। ছুটির চারদিনে আমরা দৈনিক ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেছি।’

জাফলং জিরো পয়েন্টের ব্যবসায়ী শাহ আলম উল্লেখ করেন, ‘চার দিনের ছুটিতে কয়েক লাখ পর্যটকের আগমনে ব্যবসা হয়েছে চাঙ্গা। প্রতিটি রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট, হোটেলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় ছিল। গত বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণ ব্যবসা হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও ব্যবসা আরও ভালো হবে।’

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পর্যটন সাব কমিটির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির লিটন জানান, ‘বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছেন। রাজনৈতিক পরিবেশ ও আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা ভালই হয়েছে। তার মতে এবার সিলেটে পর্যটন ব্যবসা শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি ধারণা করছেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়ার মতে, ‘এ বছর সাদাপাথরে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেসবধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এবার কোনো দুর্ঘটনাও ঘটেনি। সরকারি ছুটি শেষ হয়ে গেলেও আজও (২৪ মার্চ) প্রচুর পর্যটক এসেছেন।’

    শেয়ার করুন: