রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
‘ম্যানার’ শেখানোর আড়ালে নবীন শিক্ষার্থীদের নির্যাতন!

ছবি: আগামীর সময়
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে প্রতিবছর নতুন স্বপ্ন নিয়ে পা রাখেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু সেই স্বপ্নের শুরুটা যদি হয় ভীতি, অপমান আর নির্যাতনের মধ্য দিয়ে তবে শিক্ষাজীবনের প্রথম অধ্যায়ই হয়ে ওঠে দুঃস্বপ্নের মতো।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে এমনই এক উদ্বেগজনক অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রথম বর্ষের ১০ জন শিক্ষার্থী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর চালানো হয়েছে র্যাগিং, মানসিক চাপ এবং শারীরিক নির্যাতন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বিনোদপুর এলাকায় ডেকে নিয়ে তাদের দিয়ে বারবার বাধ্য করা হতো নিজের পরিচয় দিতে। শুধু তাই নয়; বিকৃতভাবে গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি, এমনকি ব্যক্তিগত চ্যাট দেখানোর মতো অপমানজনক কাজও করানো হয়েছে। অশালীন ভাষা, গালিগালাজ এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল ভয়ংকর।
সিনিয়রদের নির্দেশ না মানলে নেমে আসত ভয়ভীতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, পুরো ব্যাচকে বয়কটের হুমকি- এসব ছিল নিয়মিত ঘটনা। এমনকি একটি আন্দোলনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
গত শনিবার এক শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। উপস্থিত না হলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন তিনি। পরদিন আবার একটি মিথ্যা নোটিশ দেখিয়ে ক্যাম্পাসে এনে সিনিয়রদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।
অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে ওই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তানভীরুল ইসলাম ইমন, আফতাব ইমন, সজিব রহমান, অলি আহমেদ, রিওয়ান খান, তাসিবুল ফাহাদ, মাহফুজুল ইসলাম নয়ন, ফরহাদ রেজা ইমন; ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নাফিউল ইসলাম অনিক এবং সহপাঠী নোমায়েত ইসলাম মারুফের নাম।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নাফিউল ইসলাম অনিক। জানালেন, ‘র্যাগিংয়ের কোনও ঘটনা আমার অজানা।’
আরেক অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসিবুল ফাহাদের ভাষ্য, ‘নবীনবরণ উপলক্ষে জুনিয়র-সিনিয়রদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, র্যাগিংয়ের কোনও বিষয় ঘটেনি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানান, ‘গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে অভিযোগটি। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।’




