ছেলের মৃত্যুর চার ঘন্টা পর চলে গেলেন শোকাতুর মা

হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন আলতাফ উদ্দিন শাহীন (৫৩)। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন হাসপাতালের চিকিৎসক। ছেলের মৃত্যুশোক সহ্য করতে না পেরে মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেছেন মা মোছা. জুবাইদা মনি (৮০)।
আলতাফ কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ২নং সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার বাবার নাম মনির উদ্দিন। কটিয়াদীর রায়খলা গ্রামে তার পৈতৃক বাড়ি হলেও দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরে বসবাস করছিলেন তিনি।
আলতাফের স্বজনরা জানান, শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিনগত রাত ১টার দিকে গাজীপুরে অবস্থানকালে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে রাত ২ টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
আলতাফের মৃত্যুর খবর ভোরে তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারজুড়ে। রবিবার ভোর ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তার মা। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, প্রিয় সন্তানের মৃত্যুর শোক সহ্য করতে পারেননি তিনি।
মৃত শাহীনের ভায়রা শাহ আলম বলেছেন, ‘শাহীনের মা জুবাইদা মনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। শাহীনকে খুব ভালোবাসতেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সে গাজীপুরে থাকলেও মাকে দেখতে প্রায়ই বাড়িতে আসতেন। ছেলের প্রতি তার গভীর টান ছিল। হয়তো সেই টান থেকেই ছেলের মৃত্যুর শোক তিনি সহ্য করতে পারেননি।’
২নং সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ছেলের মৃত্যুর মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে মায়ের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় তৈরি করেছে শোকের আবহ। এমন ঘটনা সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই পরিবারের মা ও ছেলের পরপর মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।
২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আলতাফ। দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৪ সালে স্বর্ণপদকে ভূষিত হন তিনি।



