কালের সাক্ষী ১০ টাকা নোটের আতিয়া মসজিদ

ছবি: প্রতিনিধি
চার শতাব্দীর বেশি সময় ধরে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে টাঙ্গাইলে ১০ টাকা নোটের ঐতিহ্যবাহী আতিয়া মসজিদ।
জানা যায়, ১৬০৯ সালে নির্মিত এই প্রাচীন স্থাপনাটি বাংলাদেশর সুলতান ও মুঘল স্থাপত্যশৈলীতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবেই নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার এক জীবন্ত দলিল হিসেবে আজও সমানভাবে গুরুত্ব বহন করছে মসজিদটি।
এটি জেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া ইউনিয়নে ৪১৭ বছর ধরে কালের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে মসজিদটি। এক সময় পুরাতন ১০ টাকার নোটে স্থান পাওয়া এই স্থাপনাটি দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।
ঐতিহাসিক মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১৮ দশমিক ২৯ মিটার প্রস্থ ১২ দশমিক ১৯ মিটার। মসজিদটির দেয়ালের পুরুত্ব ২.২৩ মিটার এবং উচ্চতা প্রায় ৪৪ ফুট। চার কোণে অষ্টভুজাকৃতির মিনার, খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার, খোদাই করা কারুকার্য নকশা, নান্দনিক গম্বুজ এবং পোড়ামাটির সূক্ষ্ম অলংকরণ— সব মিলিয়ে স্থাপত্যশৈলীতে এটি এক অনন্য সৃষ্টি। মসজিদটির বারান্দায় উত্তর দক্ষিণ দেয়ালে কারুকার্য নকশাসহ তিনটি দরজা যা সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
১৯৭৮ সালে প্রথমবারের মতো দেশের ১০ টাকার নোটে স্থান পায় আতিয়া মসজিদ। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালেও দশ টাকার নোটের প্রচ্ছদে ছিল এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি। তবে বর্তমানে প্রচলিত ১০ টাকার নোটে আর দেখা যায় না এ ঐতিহ্যের প্রতীককে।
‘প্রতিদিন স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি ইতিহাস প্রেমী ও ভ্রমণপিপাসীরা ছুটে আসেন নামাজ পড়তে। এছাড়াও পবিত্র মাহে রমজান মাসে নামাজ পড়তে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন মুসল্লিরা। শতবর্ষের স্মৃতি বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপনায় তারা খুঁজে পান অতীতের ছোঁয়া।’ প্রতিবেদককে জানাচ্ছিলেন স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আব্দুল মান্নান ও রফিকুল ইসলাম।
ভ্রমণ প্রেমী আব্দুল কাদেরও ব্যক্ত করলেন তার অভিজ্ঞতা। ‘আমার শ্বশুরবাড়ি এই মসজিদের পাশেই। আমি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকি। খুব ইচ্ছে ছিল রমজানে একদিন এই মসজিদে নামাজ পড়ব। সেই ইচ্ছা অনুযায়ী আজকে এসেছি।’
শশুর বাড়ি এখানে হওয়াতে এর আগেও অনেকবার আসা হয়েছে কাদেরের। তখন মুসল্লী ও দূর-দূরান্ত থেকে অনেক লোক আসত মসজিদটি এক নজরে দেখার জন্য। তবে এখন তেমন ভীড় তার চোখে পড়েনি।
মুসল্লিদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে রমজান মাস হওয়ায় দূরের লোকজন একটু কম আসছে। তবে ঈদের পর লোকজন বেশি আসতে পারে বলেও তাদের ধারণা।
মসজিদটি যথাযথ সংস্কার ও সংরক্ষণের মাধ্যমে পুনরায় ১০ টাকার নোটে স্থান দেওয়া হলে মানুষের কাছে আরও গুরুত্ব বহন করবে বলে মনে করেন কাদের।
ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জোর দাবি স্থানীয় আব্দুর রহমানের। ‘মুঘল আমলে স্থাপনাটি ধরে রাখতে সরকারের যেন যথাযথ ব্যবস্থা নেন। এছাড়াও এই মসজিদটি ১০ টাকার নোটে থাকায় একটি ঐতিহ্য বহন করত। সেটি পুনরায় ১০ টাকার নোটে যুক্ত করার দাবি রইল।’
মসজিদের পেশ ইমাম আব্দুল বাছিরও একই প্রত্যয়। আবার যেন দেশীয় মুদ্রায় স্থান দেওয়া হয় মসজিদের ছবিটি।
আতিয়া মসজিদটি শুধু টাঙ্গাইলের গর্ব নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন নিদর্শন আজও নীরবে শোনায় ইতিহাসের গল্প।

