আগামীর সময়

৭৪ বছরেও শনাক্ত হয়নি প্রথম ভাষা শহীদ রফিকের কবর

৭৪ বছরেও শনাক্ত হয়নি প্রথম ভাষা শহীদ রফিকের কবর

সংগৃহীত ছবি

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শনাক্ত হয়নি প্রথম ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদের কবর। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ তার পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়রা। ভাষা সৈনিক রফিকের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে দাবি জানান তারা।

মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা চেয়ে বায়ান্নোর এই দিন ১৪৪ ধারা ভেঙে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে বিক্ষোভ করে ছাত্রজনতা। সেই মিছিলে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, জব্বারদের সঙ্গে শহীদ হন মানিকগঞ্জ পারিল গ্রামের সন্তান রফিক। রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত হয় তার লাশ। ২০০৬ সালে ভাষা শহীদ রফিকের গ্রামের নাম বদলে রাখা হয় রফিকনগর। অর্জন বলতে এটুকুই। কিন্তু ৭৪ বছরেও শনাক্ত হয়নি তার কবর। সংরক্ষণ করা হয়নি জন্মভিটে। প্রতি বছর বড় আয়োজনে মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হলেও খবর রাখে না কেউ। এমনকি ২১ পদকসহ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ডাকা হয় না তার পরিবারকে।

২০০০ সালে একটি বেসরকারি সংস্থা রফিকনগরে ২টি ঘর বানিয়ে দিলেও নির্মাণ করা হয়নি সীমানা প্রাচীর। যে ঘরে জন্ম রফিকের তাও এখন বিলীন।

শহীদ রফিকের ভাতিজা আবদুর রউফ বলেন, ২১ পদকসহ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অনেক মানুষকে দাওয়াত দেয়। কিন্তু শহীদ রফিকের পরিবারকে কখনো ডাকা হয় না। যে সরকার আসে সকলেই কবর শনাক্ত করার কথা বলে। পরে আর কাজ করে না। নতুন সরকারের কাছে শহীদ রফিকের কবর শনাক্ত করার দাবি জানান তিনি।

শহীদ রফিকের জন্মভিটার পাশে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে ‘ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’। ২০০৮ সালের ১৫ মে জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

জাদুঘরের একতলা দৃষ্টিনন্দন ভবনের দেয়ালে শহীদ রফিকের ছবি ও সংক্ষিপ্ত জীবনী টানানো রয়েছে। ভেতরে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও সাহিত্যবিষয়ক নানা বই সাজানোও আছে। আছে শহীদ রফিকের ব্যবহৃত চেয়ার-টেবিল, লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি। তবে প্রত্যাশিত স্মৃতিচিহ্নের ঘাটতি রয়েছে এমন অভিযোগ দর্শনার্থীদের।

তারা বলছেন, জাদুঘরে নেই ভাষা আন্দোলন নিয়ে তেমন কোনো নথিপত্র বা ভাষা আন্দোলনের মিছিলে তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার দৃশ্য কিংবা ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার ঘটনার কোনো দেয়ালচিত্র বা মুর‌্যাল নেই। ফলে ইতিহাসের আবেগ ও ত্যাগের গভীরতা অনুভব করার মত উপস্থাপনায় ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

জাদুঘর দেখতে আসা স্কুলছাত্র সোহাগ রহমান বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের ঘটনাবলি ও শহীদ রফিকের আত্মত্যাগ তুলে ধরে একটি মুর‌্যাল নির্মাণ করা হলে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস আরও ভালোভাবে জানতে পারবে।’

শহীদ রফিকের ভাইয়ের ছেলে শাহজালাল বাবু , ‘বাড়ির উঠানে শহীদ মিনারের পাশে একটি মুর‌্যাল নির্মাণ করা হলে তা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াবে।’

গ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান ফরহাদ খান বলেন, ‘শহীদ রফিকের শিক্ষাগত সনদ ও একুশে পদকের অনুলিপি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা গেলে এটি আরও সমৃদ্ধ হবে।’ এতে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্যও জাদুঘরটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘ভাষা শহীদ রফিকের স্মৃতি সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আরও কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কবর শনাক্তের বিষয়ে অবগত ছিলাম। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’

    শেয়ার করুন: