ছেলে-ভাগনিকে হারিয়ে স্তব্ধ শরীফ
‘আর কিচ্ছু লাগবে না, লাশটা বুঝিয়ে দিন’

ফাইল ছবি
‘ছেলে ও ভাগনিতো আর নেই, এখন তাদের লাশটা বুঝিয়ে দেন। টাকার দরকার নেই, সন্তানের লাশটা আমাকে বুঝিয়ে দিন, আর কিচ্ছু লাগবে না, আমার সব শেষ’— কেঁদে কেঁদে বলছিলেন শরিফ নামের এক যুবক।
আজ বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় ছেলে ও ভাগনিকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন শরিফ। তার কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ।
‘রাজবাড়ী থেকে আমার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, বোন ও বোনের ছেলে সৌহার্দ্য পরিবহন বাসে ওঠে। ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার পর আমার স্ত্রী, মেয়ে ও বোন স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাড়ে উঠতে পারলেও আমার ৭ বছরের ছেলে সন্তান ও ১১ বছর বয়সী ভাগনি এখনো নিখোঁজ রয়েছে’—বলছিলেন শরিফ।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরি থেকে পানিতে পড়ে ডুবে গেছে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস। সেই বাসে থাকা ৭ বছর বয়সী ছেলে সাবিত ও ১১ বছরের ভাগনি সোহানা আক্তারের লাশের জন্য নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন শরীফ।
এদিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের ঢাকাগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে দুইজনের। তবে এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩৩ জন। এ তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন।
‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে— ৩৩ জনের মতো যাত্রীর মরদেহ পানির নিচে রয়েছে। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের দুজন ডুবুরি, দুজন সহকারী ডুবুরি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে’—জানালেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় ১১ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে পেরেছেন বলে জানা গেছে। বাসে অন্তত যাত্রী ছিলেন ৪৫ জন।

