আগামীর সময়

মুকুলে ভরা গাছ, পাবনায় লিচুর বাম্পার ফলনের আভাস

মুকুলে ভরা গাছ, পাবনায় লিচুর বাম্পার ফলনের আভাস

গাছে গাছে ফুটেছে সোনালি মুকুল। ছবি: আগামীর সময়

পাবনার লিচু বাগানগুলোতে এখন বসন্তের মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে আছে। গাছে গাছে ফুটেছে সোনালি মুকুল, আর সেই মুকুলের মৌ-মৌ সুবাসে ভরে উঠেছে ঈশ্বরদীর গ্রামগঞ্জ। প্রকৃতির অনুকূল আচরণে এবার যেন হাসছে প্রতিটি লিচু গাছ, আর সেই হাসিতেই নতুন স্বপ্ন দেখছেন জেলার হাজারো চাষি।

গত বছরের দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাজা। প্রতিকূল আবহাওয়ায় মুকুল কম আসায় বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছিল বাগান মালিকদের। অনেকেরই আশার প্রদীপ তখন প্রায় নিভে গিয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতি যেন এবার তাদের প্রতি উদার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফিরেছে আশার আলো।

ঈশ্বরদীর ছিলিমপুর, আওতাপাড়া, সাহাপুর, নওদাপাড়া, দাশুড়িয়া, মিরকামারী ও লক্ষীকুন্ডা লিচু বাগানে ঘেরা এই গ্রামগুলো এখন যেন এক বিশাল ফুলের বাগান। ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি গাছেই মুকুলের ছড়াছড়ি। কোথাও শাখা ভরে উঠেছে ফুলে, কোথাও আবার ডাল নুইয়ে পড়েছে কুঁড়ির ভারে।

বক্তারপুর গ্রামের অভিজ্ঞ চাষি হাসান বিশ্বাসের চোখে-মুখে এখন স্বস্তি আর আনন্দের ছাপ। এক দশকের অভিজ্ঞতায় এমন মুকুলের সমারোহ তিনি আগে দেখেননি। তার হিসাব বলছে, বড় গাছে ১০ থেকে ১২ হাজার এবং মাঝারি গাছে ৭ থেকে ৮ হাজার পর্যন্ত লিচু ধরতে পারে যা সত্যিই আশাব্যঞ্জক।

একই দৃশ্য নওদাপাড়া ও সাহাপুরেও। চাষি মো. আব্দুল খালেক বলেছেন, ‘গত বছর ১০০টি গাছের মধ্যে মাত্র ২৫টিতে মুকুল এসেছিল। এবার ৮০টি গাছ ফুলে ভরে গেছে।’

আরেক চাষি ও ব্যবসায়ী মো. রাকিবুল ইসলাম তার বাগান থেকেই সাড়ে তিন থেকে চার লাখ লিচু পাওয়ার আশা করছেন। ফলন বেশি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই লাভের অঙ্কও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

এবার শুধু ফলন নয়, বাজারও আশার আলো দেখাচ্ছে। স্থানীয় জাতের লিচু প্রতি হাজারে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা, আর বোম্বে ও চায়না-৩ জাতের দাম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক কিতাব মন্ডলের মতে, সাধারণত ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা হলেও এবার কুঁড়ির ৬০-৭০ শতাংশ টিকে থাকলে তা ৮০০ কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যও বলছে সম্ভাবনার কথা। এ বছর পাবনায় ৪ হাজাার ৬২০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ঈশ্বরদীতেই ৩ হাজার হেক্টরের বেশি। গত বছর যেখানে উৎপাদন ছিল প্রায় ৩৫ হাজার টন, সেখানে এবার তা ৫০ হাজার টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। হেক্টরপ্রতি ফলনও ১০ টন থেকে বেড়ে ১১ টনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে আশার পাশাপাশি কিছু শঙ্কাও আছে। কালবৈশাখী বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ যদি আঘাত হানে, তাহলে এই স্বপ্নে ভাটা পড়তে পারে। তাই কৃষকদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমি বলেছেন, ‘মুকুল ঝরা রোধে আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষকরা যদি আমাদের পরামর্শ মেনে কাজ করে তাহলে আশা করি তারা লাভবান হবে।’

    শেয়ার করুন: