আগামীর সময়

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বাঁচলেও পদ্মার বাসডুবিতে হার নাসিমার

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বাঁচলেও পদ্মার বাসডুবিতে হার নাসিমার

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা দিনাজপুরের পার্বতীপুরের নাসিমা বেগম গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন। ‎রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির সময় ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে ছিলেন নাসিমা। সেই যাত্রায় প্রাণে বাঁচলেও এবার তাঁর ভাগ্য সহায় হয়নি। পদ্মা পানি বাস তলিয়ে যাওয়ার ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার হয় নাসিমার নিথর দেহ।

বিশ্বের ভয়াবহতম শিল্প দুর্যোগের মধ্যে অন্যমত ও বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনার নাম রানা প্লাজা ধস। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে অবস্থিত আটতলা ভবনটি ধসে পড়ে। এ সময় ভবনের ভেতর কয়েক হাজার পোশাক শ্রমিক কাজ করছিলেন। এতে এক হাজার ১৩৬ জন নিহত ও আরও কয়েক হাজার মানুষ আহত হন।

‎জানা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪ নম্বর লাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা বেগম। জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগ্নি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। জীবীকার সন্ধানে ধর্ণা দিতে থাকেন এখানে সেখানে। দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো চাকরি পাননি তিনি। পরে ঈদ উপলক্ষে নিজের বাড়ি না গিয়ে যান ভাগনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে।

‎ঈদ শেষে গত ২৫ মার্চ বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগ্নি আজমিরা খাতুন, ভাগ্নির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় তারা সবাই ডুবে যান।

‎কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু জানান, গতকাল শুক্রবার জুমার পর পার্বতীপুরে পারিবারিক কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে।

পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, নিহতের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সমবেদনা প্রকাশ করেছেন শোকাহত পরিবারের প্রতি।

‎পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, নিহত নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।


    শেয়ার করুন: