আগামীর সময়

ছেলেকে না পেয়ে বাবা-মাকে নির্যাতন, মায়ের আত্মহত্যা

ছেলেকে না পেয়ে বাবা-মাকে নির্যাতন, মায়ের আত্মহত্যা

ছবিঃ আগামীর সময়

জামালপুর সদর উপজেলায় গরু চোর সন্দেহে ছেলেকে না পেয়ে বাবা-মাকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ অপমান সইতে না পেরে মা জোসনা বেগম আত্মহত্যা করেছেন।

এ ঘটনায় মৃতের ছোট ছেলে মো. সজীব বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপরের দিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেন জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান।

এরআগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কুটামনি খলিলহাটা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত জোসনা বেগম ওই এলাকার কৃষক সুরুজ আলীর স্ত্রী। সুজন তাদের বড় ছেলে ও সজীব ছোট ছেলে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কুটামনি খলিলহাটা এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে গোলাম কিবরিয়া মুক্তা (২৮) ও নায়েব আলী মেম্বারের ছেলে মো. হৃদয় (১৯)। নায়েব আলী কেন্দুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার।

স্থানীয়, অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেল, গত বুধবার রাত সাড়ে ৩ টার দিকে পূর্ব কুটামনি খলিলহাটা গ্রামে পুলিশ সদস্য নায়েব আলীর ছেলে কাউসারের বাড়িতে চুরির চেষ্টা হয়। এ সময় ওই ওয়ার্ডের সদস্য কাউসারের মামা নায়েব আলীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের লোকজন কৃষক সুরুজ আলীর বড় ছেলে সুজনকে চোর সন্দেহে ধরতে যায়। তাকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় তার বাবা-মা বাঁধা দেন। এতে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তির মধ্যে সুজন পালিয়ে যান। এরপর তার বাবা-মাকে সেখান থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় কাউসারের বাড়ির উঠানে।

এ সময় মা জোসনা বেগমকে মারধর করা হয়। সেই সময় সোহেল রানা ওই বাড়িতেই ছিলেন। পরে রাতেই চোর সন্দেহে তোতা মিয়া নামে আরেকজনকে ধরে নিয়ে আসেন নায়েব আলী ও তাদের লোকজন। পরে কৃষক সুরুজ আলী ও তোতা মিয়াকে কাউসারের উঠানে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার সকালে সোহেল রানাকেও ডেকে নিয়ে আসা হয় কাউসারের বাড়ির উঠানে। পরে তাদের তিনজনকে একসাথে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠে নায়েব আলী ও তাদের লোকজনের বিরুদ্ধে।

এরপর সুরুজ আলীর স্ত্রী জোসনা বেগমকে ডেকে নেওয়া হয়। এ সময় তাকে চুল টেনে, কিল-ঘুষিসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও নানা রকম অপবাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই নির্যাতন ও অপবাদ সহ্য করতে না পেরে সেখান থেকে দৌড়ে পালায় জোসনা বেগম। পরে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

তবে পরিবারের অভিযোগ তাকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করলেন জামালপুর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান।

    শেয়ার করুন: