মধুপুরে গারো পরিবারের ঘর ভাঙাকে ঘিরে উত্তেজনা

ছবিঃ আগামীর সময়
টাঙ্গাইলের মধুপুরে রাবার বাগানের জমি উদ্ধারের অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি গারো পরিবারের নির্মাণাধীন ঘর ভেঙে দেওয়া হয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হয়। সোমবার (৯ মার্চ) মধুপুর উপজেলার ধরাটি গ্রামের কালাপাহাড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বনশিল্প উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বশিউক) পরিচালিত চাঁদপুর রাবার বাগানের কর্মকর্তারা দখল হওয়া জমি উদ্ধারের অভিযানে নামেন। এ সময় একটি গারো পরিবারের নির্মাণাধীন ঘরের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ঘরের কয়েকটি খুঁটি ভেঙে ফেলা হয়। বাড়ির চারপাশে লাগানো গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে মধুপুর বনাঞ্চলে গারো সম্প্রদায় ও বন বিভাগের চলমান বিরোধ আবারও সামনে আসে।
ভুক্তভোগী রমেন কুবি ও তার স্ত্রী শিবলি মাংসাং অভিযোগ করেন, তাদের কোনো ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়নি। প্রায় ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে জমির দখল কিনে সাত বছর ধরে সেখানে বসবাস করছিলেন তারা।
চাঁদপুর রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক আমানুল্লাহ বলেছেন, রাবার শিল্পের দখল হওয়া জমি উদ্ধারের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা জুবায়ের হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
ইউএনও জানান, বৈঠকে মধুপুর রাবার বাগানের মহাব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন, সংশ্লিষ্ট বাগানের ব্যবস্থাপক আমানুল্লাহ, মধুপুর থানার ওসি জাফর ইকবাল এবং পিআইও রাজীব আল রানা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘর পুনর্নির্মাণে দুই বান্ডিল টিন, ৬ হাজার টাকা এবং খুঁটির প্রয়োজনীয় ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সমাধান প্রক্রিয়ার সময় জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় সাংবাদিক লিটন সরকার, হাবিবুর রহমান ও লিয়াকত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।



