রংপুর
আবাসিক হোটেলে থাকছে গরু

ছবি: আগামীর সময়
রংপুরে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমধর্মী গরুর আবাসিক হোটেল, যেখানে প্রতিদিন মাত্র ৬০ টাকায় গরু রাখার সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। একসঙ্গে প্রায় ২০০টি গরু রাখার সুবিধা থাকায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পাইকারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই উদ্যোগ।
নগরীর ধর্মদাস এলাকায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে উদ্যোক্তা সিরাজুল ইসলাম গড়ে তুলেছেন এই হোটেল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা হাট থেকে গরু কিনে কয়েক দিন রাখছেন এখানে। এতে গরুর নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মিলছে খাবার ও বিশ্রামের সুবিধাও।
পাইকারদের মতে, আগে রংপুর অঞ্চলে গরু কিনে রাখার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় তারা নানা সমস্যায় পড়তেন। এক ট্রাক গরু কিনতে কয়েক দিন সময় লাগলেও গরু রাখার ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিতে হতো। চট্টগ্রাম থেকে আসা পাইকার আব্দুস সোবহান জানালেন, এখন একাধিক হাট ঘুরে ধীরে ধীরে গরু কিনে রাখা যাচ্ছে এই হোটেলে, যার কারণে আগের মতো ভোগান্তি নেই।
কুমিল্লা থেকে আসা আরেক ব্যবসায়ী নজির হোসেন উল্লেখ করেন, একটি ট্রাকে প্রায় ৪০টি গরু পরিবহন করা যায়। আগে গরু জড়ো করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লেও এখন নিরাপদে গরু রাখার সুযোগ থাকায় সহজ হয়েছে ব্যবসা। প্রয়োজনীয় খড় ও ভুসি হোটেলেই পাওয়া যায়, যদিও তা কিনতে হয় আলাদাভাবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিনশেড ঘরে গরু রাখা হয়েছে সারিবদ্ধভাবে। সবসময় পূর্ণ না থাকলেও প্রতিদিনই গরু আসা-যাওয়ার কারণে সচল থাকে কার্যক্রম। এখানে নিরাপত্তার জন্য রাতের প্রহরী ছাড়াও পরিচ্ছন্নতার জন্য নিয়োজিত আছেন কর্মী।
হোটেলের কর্মচারী আব্দুর রহিম জানাচ্ছিলেন, এখানে কাজ করে প্রতিদিন আয় হচ্ছে প্রায় ৫০০ টাকা, যা স্বস্তি এনেছে তার সংসারে। পাশাপাশি গোখাদ্য বিক্রির মাধ্যমে আরও ২০ জনের তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান।
উদ্যোক্তা সিরাজুল ইসলাম তুলে ধরেন, পৈতৃক ৪৪ শতক জমির অব্যবহৃত অংশ কাজে লাগিয়ে ২০২৩ সালে তৈরি করা হয় এই শেড। ব্যবসায়ীদের অনুরোধেই নেওয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ। কোরবানির ঈদের আগে হোটেল প্রায় পূর্ণ থাকে, অন্য সময় গড়ে ৩০টির মতো গরু থাকে এখানে।
রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন হাট থেকে দেশি গরুর চাহিদা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বেশি থাকায় এই উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করেছে বলে জানান তিনি।



