আগামীর সময়

হাতে কড়া, কোমরে রশি, মা-বাবার জানাজায় লীগ-দলের আসামিরা

হাতে কড়া, কোমরে রশি, মা-বাবার জানাজায় লীগ-দলের আসামিরা

সংগৃহীত ছবি

অভিযুক্ত এমনকি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গেও অমানবিক আচরণ করা যাবে না। এমন নির্দেশনা আছে বাংলাদেশের সংবিধানে। তারপরেও অভিযুক্ত আসামিদের হাতকড়া, কোমরে দড়ি এমনকি ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে হাজির করানোর ঘটনায় বিভিন্ন সময় সমালোচিত হয়েছে পুলিশ।


শনিবার এমন দুটি ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ী ও কক্সবাজারে।


রাজবাড়ীতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পুলিশি পাহারায় বাবার জানাজায় অংশ নেন ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন পাটোয়ারী। এসময় তার কোমরে বাঁধা ছিল রশি।


আলাউদ্দিন রাজবাড়ী সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। একটি অস্ত্র মামলায় আড়াই মাস ধরে তিনি বন্দি রাজবাড়ী জেলা কারাগারে।


একই দিন দুপুরে কক্সবাজারে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় হাতকড়া হাতে অংশ নেন দুই ভাই।


ফরিদুল আলম ও মোহাম্মদ ইসমাইল নামে এ দুজন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত বলে আছে অভিযোগ। রামু থানায় হওয়া একাধিক মামলায় আড়াই মাস ধরে কক্সবাজার জেলা কারাগারে বন্দি এ দুজন।


রাজবাড়ীর ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবা শুকুর পাটোয়ারীর জানাজায় অংশ নিতে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান আলাউদ্দিন। পুলিশ তাকে সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিয়ে যায় নিমতলার বাড়িতে। জানাজার নামাজের সময় হ্যান্ডকাফ খুলে তার কোমরে বেঁধে রাখা হয় রশি।


জানাজায় ছিলেন রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম রোমান। তিনি বলেন, ‘আলাউদ্দিন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আমরা আর প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না। আশা করি, সরকার আলাউদ্দিন পাটোয়ারীর বিষয়টি দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান করবে।’


নিমতলা এলাকা থেকে গত ১ ডিসেম্বর একটি বিদেশি রিভলভার ও একটি রামদা উদ্ধারের ঘটনায় আলাউদ্দিন পাটোয়ারীকে আটক করে যৌথ বাহিনী। পরে রাজবাড়ী সদর থানায় অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঠানো হয় কারাগারে।


অন্যদিকে, কক্সবাজারে শনিবার সকালে মারা যান ফরিদুল ও ইসমাইলের মা মোস্তফা বেগম। জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান তারা। হাতকড়া নিয়েই দুপুরে মাকে শেষবিদায় জানান তারা।


রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এই জানাজা।


পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ফরিদুল ও ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত। রামু থানায় একাধিক মামলার আসামি তারা।


রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের সদস্যদের আবেদনে তাদের বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। হাতকড়া পরা অবস্থায় মায়ের জানাজায় অংশ নেয়ার পর বিকেলে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে দুই ভাইকে।


সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ  অনুযায়ী ও কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে এমনকি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গেও কোনো ধরনের নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অমর্যাদাকর আচরণ না করার নির্দেশনা রয়েছে। 


পুলিশ প্রবিধানের ৩৩০ ধারাতেও বলা আছে- বন্দিদের হাতকড়া পরানো বা দড়ির ব্যবহার প্রায় ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও অমর্যাদাকর।


    শেয়ার করুন: