লাইনে ছিল লাল পতাকা, লাইনচ্যুত ট্রেনের চালক ‘পলাতক’

সংগৃহীত ছবি
বগুড়ার সান্তাহার স্টেশন থেকে নীলফামারীর দিকে যাওয়ার পথে লাইনচ্যুত নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক ও স্টাফদের হদিস মিলছে না। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, মেরামত কাজ চলায় ওই লাইনে লাল পতাকা টানানো ছিল। তারপরও ট্রেন চালিয়ে নেন চালক।
দুর্ঘটনায় এর ৯ বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। অন্তত ৪৭ জনের আহত হওয়ার খবর প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের এসআই মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে এসে বেলা ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশনে বিরতি করে।
‘সান্তাহার স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কিছুসময় পরেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়।’
এ ঘটনায় ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীরা ছিটকে খাদে পড়ে যায়। পাকশী রেলওয়ে জেলার এসপি মেহেদী হাসান জানালেন, আহতদের নওগাঁ ও আদমদিঘীর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, রেললাইনের ওই স্থানে মেরামতের কাজ চলছিল। লাল পতাকাও টানানো ছিল। তবে চালক খেয়াল না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পর চালক ও স্টাফদের পাওয়া যায়নি।
একই তথ্য দিলেন সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের এসআই।
‘সামনে লাল পতাকা দেওয়া ছিল। তারপরেও চালক দ্রুতগতিতে আসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনের ছাদে অনেক মানুষ থাকায় ছাদ থেকে পড়ে অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
‘আমরা দুপুর সোয়া ২টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পাই। আমাদের চারটি ইউনিট উদ্ধার কাজ করছে। আমরা প্রত্যেকটা বগি তল্লাশি করছি। ৪৭ জনকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একজনের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয়রাও কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়েছেন’- বলছিলেন নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক রেজাউল করিম।
ঈশ্বরদী জংশন রেলস্টেশন থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে যাচ্ছে বলে হালনাগাদ তথ্য দিলেন পাকশী রেলওয়ের এসপি।
বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনা থেকে আসা রুপসা এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় থেকে আসা বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস জয়পুরহাট স্টেশনে, রাজশাহী থেকে আসা বরেন্দ্র এক্সপ্রেস এবং ঢাকা থেকে আসা একতা এক্সপ্রেস সান্তাহার জংশনে আটকা পড়েছে।
লাইনচ্যুত বগিগুলো সরাতে ক্রেনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। রেললাইন মেরামতের কাজও চলছে। কাজ শেষ হলে ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে- আশ্বস্ত করলেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার ফরিদ হোসেন।

