ভোলায় জ্বালানি সংকট চরমে, ক্ষুব্ধ যানবাহন চালকরা

ছবিঃ আগামীর সময়
ভোলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন চালকরা পড়েছে চরম দুর্ভোগে। হঠাৎ করে পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আর যেখানে পাওয়া যাচ্ছে সেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
এই পরিস্থিতিতে চালকদের দৈনন্দিন আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে যারা মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন—যেমন রাইড শেয়ারিং বা ডেলিভারি কর্মীরা— তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে কাজ কমিয়ে দিয়েছেন বা বিকল্প পেশার কথা ভাবছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বন্ধের দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পের সামনে দেখা যায় মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি। আবার পাম্পের পেছনের অংশে বোতল হাতে দাঁড়িয়ে তেলের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় চালকদের।এমন পরিস্থিতিতে কেউ তেল পাচ্ছেন আবার কেউ কাঙ্ক্ষিত তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
চালকদের অভিযোগ, পাম্প থেকে যে পরিমাণ তেল দেওয়া হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এতে তাদের দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আবার দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তেল পাচ্ছেন না অনেকেই।
কেউ কেউ অভিযোগ করেন, শৃঙ্খলার অভাবে ঘটছে একাধিকবার তেল নেওয়ার ঘটনা। ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকেই। এদিকে তেল নিতে এসে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন চালক। এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণে সাধারণ মানুষের কাছে বোতলে করে তেল বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। জ্বালানি সংকটে ভোলার পরিবহন খাতে ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংকটের পেছনে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা, পরিবহন জটিলতা বা মজুদ সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে বলছেন।

