টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা মারা গেছে

সংগৃহীত ছবি
মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে আহত শিশু হুজাইফা সুলাতানা আফনান মারা গেছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রায় এক মাস চিকিৎসা নেয়ার পর শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির মামা মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ঘটনা নিশ্চিত করেছেন হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ খোকন চন্দ্র রুদ্র।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় গত ১১ জানুয়ারি সকালে গুলিবিদ্ধ হয় ৯ বছরের হুজাইফা।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে আসা গুলিটি তার মাথায় বিদ্ধ হয়।
ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার বড় হুজাইফা। পড়ত স্থানীয় হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে।
তার চাচা মো. শওকত সেসময় জানান, তিনদিন ধরে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি চলছিল। ঘটনার দিন হুজাইফা তার দাদার সঙ্গে দোকান থেকে নাস্তা কিনতে বের হয়। বাড়ি ফেরার সময় ঘরের আঙিনায় গুলিবিদ্ধ হয় সে।
প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সন্ধ্যায় ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে গুলিটির অপসারণ সম্ভব না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে আনা হয় ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে। ২৭ দিন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিল শিশুটি।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সম্প্রতি বেড়েছে বিমান, ড্রোন, মর্টার শেল হামলা ও বোমা বিস্ফোরণ। একদিকে মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানে সরকারি জান্তা বাহিনী বিমান হামলা জোরদার করেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে আরাকান আর্মি।
এর প্রভাবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। ওপারের বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সীমান্তবর্তী টেকনাফের গ্রামগুলো। গুলি এসে পড়ে এপারের সীমান্তবর্তী জনপদে।

