মাদারীপুরে ১৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বড় একটি অংশ জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, মাদারীপুর-১, ২ ও ৩ আসনে মোট ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ ভোট অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় ১৭ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের তিন প্রার্থীই প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান। আসনভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়— মাদারীপুর-১ আসনে ১০ জনের মধ্যে ৭ জন, মাদারীপুর-২ আসনে ১০ জনের মধ্যে ৭ জন এবং মাদারীপুর-৩ আসনে ৫ জনের মধ্যে ৩ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টি মনোনীত আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. হাফিজুর রহমান। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৬৯টি ভোট। অন্যদিকে, এই তিনটি আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, বিএনপি প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া এবং একই দলের আনিছুর রহমান তালুকদার খোকন।
মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ বলেন, নির্বাচন বিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়।
জামানত কী?
জামানত হলো নির্বাচনি নিরাপত্তাজনিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ, যা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হয়। টাকা জমাদানের প্রমাণ স্বরূপ ট্রেজারি চালান বা কোনো তফসিলি ব্যাংকের পে-অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডার জমা দিতে হয়। একটি নির্বাচনি এলাকায় যত ভোট পড়ে তার শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট প্রার্থীরা যদি না পান তাহলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। সে হিসেবে এবারও একটি বড় সংখ্যক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। কোন কোন আসনে দেখা গেছে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীই জামানতের টাকা ফেরত পাওয়ার মতো ভোট পাননি। প্রতিটি নির্বাচনে এই ধরনের ঘটনা ঘটে। ন্যূনতম ভোট না পেয়ে জামানতের টাকা রক্ষা করতে পারেন না প্রার্থীরা।
জামানতে কত টাকা ?
বর্তমানে সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থীদেরকে ২৫ হাজার টাকা, উপজেলা নির্বাচনে ১০ হাজার টাকা আর পৌরসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যার হিসাবে জামানতের টাকা আগে জমা দিতে হয়। পৌরসভা নির্বাচনে অনধিক ২৫ হাজার ভোটারের এলাকায় ১৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার ১ হতে ৫০ হাজার ভোটারের এলাকায় ২০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ভোটারের এলাকার জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং এক লাখের বেশি ভোটারের এলাকার জন্য ৩০ হাজার টাকা জামানত জমা রাখতে হয় নির্বাচন কমিশনে। নির্বাচন শেষে কমিশন জামানত বাতিল হওয়া প্রার্থীদের একটা তালিকা করে। সেই তালিকা অনুযায়ী বাতিল হওয়া জামানতের টাকা অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলের অফিসের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। আর যেসব প্রার্থীরা জামানত হারাননি, গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন অফিসের মাধ্যমে জামানতের টাকা তারা তুলে নিতে পারেন।

