ডিপোতে তেলের হিসাবে গরমিল, ম্যানেজার বরখাস্ত

সংগৃহীত ছবি
মোংলায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের তেল স্থাপনায় (অয়েল ইনস্টলেশন) ডিজেল মজুদে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে। ওই স্থাপনার তিনটি ট্যাংকে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেল পাওয়া গেছে, যা কোম্পানির হিসাবের খাতায় ছিল না। বড় ধরনের জালিয়াতি, অনিয়ম ও পাচারের অংশ হিসেবেই অতিরিক্ত এই তেল ট্যাংকে রেখে হিসাবে কম দেখানো হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৩৯ মিনিট থেকে ভোররাত পর্যন্ত চলা যৌথ অভিযানে বিষয়টি ধরা পড়ে। অভিযান চলাকালে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) মো. আল আমিন খানের অনুপস্থিতিতে কম্পিউটার অপারেটর (অস্থায়ী) মো. ফারুক হোসাইন দাপ্তরিক রেজিস্ট্রার ও হিসাব উপস্থাপন করেন। এ ঘটনায় আজ রবিবার (২৯ মার্চ) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে (বিপিসি) পাঠানো হয়েছে।
পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সই করেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাশ, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) প্রবীর হীরা, বানৌজা মোংলার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বিএন) রাইয়ান আলম, বানৌজা মোংলার এসএইচএ আবুল কাশেম, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের লেফটেন্যান্ট বিএন খালিদ সাইফুল্লাহ, যমুনা অয়েল মোংলার গেজারম্যান মো. জাহিদুর রহমান, বানৌজা মোংলার চিফ পোর্ট অফিসার মো. মিজানুর রহমান, মোংলা থানার এসআই মো. ইমামুল ইসলাম ও যমুনা অয়েলের কম্পিউটার অপারেটর (অস্থায়ী) মো. ফারুক হোসাইন।
এ ঘটনায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) মো. আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তেলের গরমিল পাওয়া ট্যাংকগুলো সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমির মাসুদ।
পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, যৌথ অভিযানের সময় পরিমাপ করে এই ট্যাংকে ডিজেল পাওয়া যায় ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৯২ লিটার, যা অফিশিয়াল হিসাবের চেয়ে ১ হাজার ১৩৭ লিটার কম। সব মিলিয়ে মজুদের হিসাবের তুলনায় বাড়তি ডিজেল পাওয়া যায় ১২ হাজার ৬১৩ লিটার। তিনটি ট্যাংকে উল্লিখিত পরিমাণ অতিরিক্ত তেল পাওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অভিযানকারী দল ওই ডিপোর তিনটি প্রধান ট্যাংক (ট্যাংক নং-১, ৯ এবং ১৪) পরিমাপ করে। এতে দেখা যায়, ২৮ মার্চে পাঠানো অফিশিয়াল স্টেটমেন্টের সঙ্গে বাস্তব মজুদের মিল নেই। ১ নম্বর ট্যাংকে অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী ডিজেল ছিল ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৮১৫ লিটার। অভিযানের সময় দেখা যায় সেখানে রয়েছে ১২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৭ লিটার। সে হিসাবে ট্যাংকটিতে ৯৩২ লিটার তেল বেশি ছিল। ৯ নম্বর ট্যাংকে হিসাবের খাতায় তেল মজুদ ছিল ২৪ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ লিটার; কিন্তু পরিমাপে ২৪ লাখ ২০ হাজার ৪৯৫ লিটার তেলের তথ্য উঠে আসে। সে হিসাবে এই ট্যাংকে বাড়তি ডিজেল পাওয়া যায় ১২ হাজার ৮১৮ লিটার। ১৪ নম্বর ট্যাংকে অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী ডিজেল ছিল ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৫ লিটার।
কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ, এনএসআই এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন এলাকায় অবস্থিত যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তিনটি তেলের ট্যাংকে সংরক্ষিত জ্বালানি তেলের পরিমাণ সরেজমিনে পরিমাপ এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে অবৈধভাবে মজুদ করা ১২ লাখ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা মূল্যের ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অতিরিক্ত তেল পাওয়া যায়।
‘অভিযানের পর আমরা বিস্তারিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে পাঠিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবে’, আগামীর সময়কে বলছিলেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।

