মানিকগঞ্জ
থানায় জিডি করার পরের দিন বালুমহালে ম্যানেজারকে গুলি করে হত্যা

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের তেওতা বালুমহালে মেসার্স ইফতিয়ার এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মিরাজ হোসেনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হামলার পর তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বালুমহালের ইজারাদার কাওসার আলম খান।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার আলোকদিয়া চরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় শিবালয় থানা পুলিশ। নিহত মিরাজ হোসেন পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ, জিডি এবং বালুমহালের ইজারাদার সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী ১৪৩২ বাংলা সনে শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের যমুনা নদীর তেওতা বালুমহালের ইজারা পান ইফতিয়ার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কাওসার আলম খান। ইজারা পাওয়ার পর থেকেই তিনি বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের একটি চক্রের সঙ্গে বালু বিক্রি নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
এর আগেও অজ্ঞাত কয়েকজন দুর্বৃত্ত বালুমহালে এসে ফাঁকা গুলি ছুড়ে যায়। গত ১ এপ্রিল কাওসার আলম খানকে মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে বার্তার মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন তিনি শিবালয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ইজারাদার কাওসার আলম খান জানান, নদীপথে বালু বোঝাই একাধিক বাল্কহেড বালুমহালে আসছিল। তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মিরাজ বালুমহালের দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি ড্রেজারে বসে হিসাব-নিকাশ করছিলেন। এ সময় স্পিডবোটে করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে আসে। কাওসার আলমকে না পেয়ে তারা মিরাজকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
পরে মিরাজকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কাওসার আলম খানের দাবি, গত বুধবার (১ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর মতিনের ঘাট এলাকায় এস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী সাত্তার ওরফে সাত্তার কমিশনারের নাম উল্লেখ করে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনার পর তিনি বৃহস্পতিবার থানায় জিডি করেন। তার অভিযোগ, তাকে না পেয়ে তার ম্যানেজারকে হত্যা করা হয়েছে।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, বালু ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। স্থানীয়দের অনেকে জানিয়েছেন, সিরাজগঞ্জের বালু ব্যবসায়ী সাত্তার কমিশনারের সঙ্গে তেওতা ও রাহাতপুর বালুমহালের ব্যবসায়ীদের বিরোধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে হামলাকারীদের কেউ শনাক্ত করতে পারেননি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

