লাইসেন্স মেলেনি
৭ এপ্রিল হচ্ছে না রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং

ছবিঃ আগামীর সময়
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেরপ্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিংয়ের কাজ আবারও পিছিয়ে গেছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ) থেকে প্রয়োজনীয় নকশা ও নিরাপত্তার ছাড়পত্র বা ‘কমিশনিং লাইসেন্স’ না পাওয়ায় এই বিলম্ব হচ্ছে। যার ফলে আগামী ৭ এপ্রিল এই ইউনিটে উৎপাদন শুরুর যে লক্ষ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করেছিল, তা আর সম্ভব হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ৭ এপ্রিল জ্বালানি লোডিংয়ের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময়মতো লাইসেন্স না মেলায় পুরো প্রক্রিয়াটি আটকে গেছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলছেন, “৭ এপ্রিল জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি রূপপুর কর্তৃপক্ষের ছিল, কিন্তু কমিশনিং লাইসেন্স সময়মতো পাওয়া যায়নি। তাই পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।”
তিনি জানান, পুরো বিষয়টি এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্রের ওপর নির্ভর করছে। বিএইআরএ নথিপত্র পর্যালোচনা শেষ করে লাইসেন্স দিলেই নতুন তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।
এর আগে রুশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট’-এর দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী সরকার ৭ এপ্রিলের তারিখটি ঠিক করেছিল। পরিকল্পনা ছিল ২০২৬ সালের জুলাই নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। বর্তমানে জ্বালানি লোডিং পিছিয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই লক্ষ্যমাত্রাও অনিবার্যভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, জ্বালানি লোডিং শেষ করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এরপর ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ শুরু করতে আরও দুই মাস প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে জ্বালানি ভরার পর পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদনে যেতে অন্তত ১০ থেকে ১১ মাস সময় লাগে। এদিকে পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) কর্মকর্তারা আশা করছেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ লাইসেন্স পাওয়া যাবে। কেন্দ্রের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা (মিডিয়া) সৈকত আহমেদ জানান, প্রথম ইউনিটের সব ধরনের নির্মাণকাজ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা গত মাসেই শেষ হয়েছে।
অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরমাণু শক্তি কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিএইআরএ একটি স্বাধীন সংস্থা। তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়ে লাইসেন্স দেবে না। বর্তমান বিলম্ব মূলত অগ্নিনির্বাপণসহ কয়েকটি বিষয়ে সুরক্ষা যাচাইয়ের কারণেই হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিএইআরএ-র লাইসেন্স অনুমোদন শাখার প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রসঙ্গত, ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের এই মেগা প্রকল্পে ১ নম্বর ইউনিটের কাজ প্রায় শেষ হলেও ২ নম্বর ইউনিটের অগ্রগতি ৭০ শতাংশের কিছু বেশি। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের ৮১ শতাংশ অর্থ ইতিমধ্যে ব্যয় হয়েছে। ২০২২ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্প এখন তিন বছর পিছিয়ে আছে। গত বছর বাংলাদেশ ও রাশিয়া যৌথভাবে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। তবে প্রথম ইউনিটের কাজে এই নতুন বিলম্ব সেই সময়সীমা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

