পানিতে ডুবে প্রাণ গেল মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীর

টাঙ্গাইলের ধলাপাড়া ইউনিয়নের রত্নাআটা এলাকায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পুকুরের পানিতে ডুবে মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী মারা গেছে। আহত অবস্থায় আরও দুই শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলো ধলাপাড়া ইউনিয়নের সরাবাড়ি বড়মেধার আশরাফ আলীর কন্যা তামান্না (১১) এবং পার্শ্ববর্তী মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের মুনসুর আলীর কন্যা নিসা খাতুন (১১)। তারা দুজনেই রত্নাআটা দারুল উলুম হিফজুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী।
স্থানীয়রা জানান, শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে একটি পুকুরের পাশে সীমানার বেড়ার কাজ করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে অসাবধানতাবশত পুকুরে ডুবে নিহত হন দুই শিশু। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সাগর আহমেদ জানান, বিকেলের সময় চার শিক্ষার্থী গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তারা গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করলে স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। দুই শিক্ষার্থীকে মৃত অবস্থায় এবং আরও দুইকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
রত্নাআটা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মানিক মিয়া বললেন, মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলাকালে পুকুরের পাশে কাজ চলছে। সেই পুকুরের পানিতে শিক্ষার্থীরা ডুবে মারা গেছে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকছুদূর আলম নিশ্চিত করেছেন, দুই শিশু পুকুরে ডুবে মারা গেছে এবং মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অবহেলা বা অন্য কোনো বিষয় থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।
ঘাটাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ জানান, নিহতদের মধ্যে একজন পুকুরে হাত-পা ধুতে নামেন, আরেকজন তাকে বাঁচাতে নামেন, তৃতীয়জনও সাহায্য করতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যান। চতুর্থজন আশেপাশের লোকদের সাহায্যের জন্য ডাক দিলে স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
'মাদ্রাসার পক্ষ থেকে যথাযথ সময়মতো পরিবারকে তথ্য না জানানোয় অভিভাবকরা কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করছেন।' যোগ করেন তিনি।
মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি এনায়াতুল্লাহর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং স্থানীয়রা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

