গাজীপুর
গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় শিশুকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

সংগৃহীত ছবি
গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় এবং তা অন্যকে বলে দিতে চাওয়ায় মাদ্রাসার ছাত্র মাহাবুব ইসলাম রনিকে (১৩) খুন করে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকালে গাজীপুর পিবিআই পুলিশ সুপার (এসপি) আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতের নাম ছাব্বির আহম্মেদ (১৯), সে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর ফকিরা গার্মেন্টসের সামনে হাজী ইকবাল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার পিতার নাম মোঃ আব্দুল বারেক। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার নিজতুলন্দর দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকায়।
পিবিআইয়ের এসআই বিশ্বজিৎ বিশ্বাস জানান, মাহাবুব ইসলাম রনি ভবানীপুরর পূর্বপাড়া এলাকায় খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে জয়দেবপুর ভবানীপুর পূর্বপাড়া দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরবর্তীতে রনি বাসায় ফিরে না আসায় তার পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি।
পর দিন বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পায় যে ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় জঙ্গলের ভেতরে আগুনে পোড়া অবস্থায় ১৩/১৪ বছর বয়সের এক কিশোরের মৃতদেহ পড়ে আছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে কোমর হতে মাথা পর্যন্ত আগুনে পোড়া অবস্থায় মৃতদেহটি দেখে স্বজনরা মাহাবুব ইসলাম রনিকে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে এই ঘটনায় মৃতের দাদা বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই মামলাটির তদন্ত করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকা হতে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনা সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে ঘটনা সংক্রান্তে জিজ্ঞাসাবাদে সে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ স্বীকারোক্তিমূলক জবাবন্দি প্রদানে করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জবাবন্দিতে জানায়, ঘটনার দিন রাত অনুমান ৯টার ছাব্বির আহম্মেদ গাঁজা সেবনের জন্য জঙ্গলের ভিতরে যায়। সে পূর্বেও মাঝে মাঝে ঐ জঙ্গলে গিয়ে গাঁজা সেবন করত। এ সময় মাহাবুব ইসলাম রনি সেখানে ছাব্বিরকে গাঁজা সেবন করতে দেখে এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এতে ছাব্বির তাকে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য বারবার অনুরোধ করে। কিন্তু রনি পুনরায় লোকজনকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে ছাব্বির আহম্মেদ ক্ষিপ্ত হয়ে রনিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পেছন দিক থেকে রনির গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরে। এক পর্যায়ে ছাব্বির শিশু রনির ঘাড় মোচড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মৃতদেহে আগুনে পুড়িয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, নিরপরাধ একটি শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার মতো নৃশংস অপরাধের সাথে জড়িত এক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বাকি আসামিদেরও খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে

