যমুনার চরাঞ্চলে মহৌষধের চাষ

ছবিঃ আগামীর সময়
টাঙ্গাইলে যমুনার চরাঞ্চলে এ বছর কালোজিরা চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে মহৌষধ কালোজিরা চাষে কৃষি বিভাগ থেকে যথাযথ কোন সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কালোজিরার হালকা নীলাভ বর্ণের ফুলে ছেয়ে আছে। কোথাও কোথাও ফল পুষ্ট হয়েছে, আবার বেশিরভাগ গাছে তেলবীজে পরিপূর্ণ ফল ধরেছে। নদীর তীরে হিমেল বাতাসে ফুলগুলো দুলছে প্রকৃতির এক অনন্য রূপে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সব রোগের মহৌষধ হিসেবে কালোজিরার খ্যাতি বহু পুরনো। এটি যেমন মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তেমনি রয়েছে নানা ভেষজ গুণ। দিন দিন এর ব্যবহার বাড়ায় বাজারে চাহিদাও বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে ভূঞাপুরে রবি ফসল হিসেবে কালোজিরা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
কৃষক জসিম ও মালেক অভিযোগ করে বলেছেন, উৎপাদন থেকে বাজারজাত পর্যন্ত কৃষি বিভাগ থেকে সরকারি প্রণোদনা, নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ যথাযথভাবে পাচ্ছেন না তারা। ফলে সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিচর্যার অভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি ব্যহত হচ্ছে।
যদিও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত সহায়তা ও পরামর্শ পেলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্থানীয় কৃষক ইব্রাহিম।
তিনি জানান, প্রতি বিঘা জমিতে চার থেকে পাঁচ মন কালোজিরা উৎপাদন হয় যার বাজার মূল্য প্রতি মন ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। কম খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় এর চাষ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
বাগবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষি বিষয়ের শিক্ষক মেনহাজ উদ্দিন বলেছেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে চরাঞ্চলে কালোজিরা হতে পারে সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল।
তিনি আরো জানান, জেলায় ভূঞাপুর, গোপালপুর টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর ও কালিহাতী উপজেলার যমুনা নদী দুর্গম চরাঞ্চল রয়েছে। এসব এলাকায় কৃষক কালোজিরা চাষ করেন। পাশাপাশি বাদাম পিয়াজ,সহ অর্থকরী ফসলও চাষ করেন তারা।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শোয়েব মাহমুদ বলেছেন, ‘বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকদের পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। যমুনা চরাঞ্চল দুর্গম হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সীমিত থাকায় কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবে চরাঞ্চলে কালোজিরা উৎপাদন বাড়ছে বিবেচনায় নিয়ে সরকারি প্রণোদনাসহ নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি আরো জানান, চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইল জেলায় ৬৩ হেক্টর জমিতে কালোজিরা চাষ হচ্ছে। জেলায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৮০ মেট্রিক টন। দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমান কালোজিরা বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। সরকারের এতে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়। বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে এবং আমদানী নির্র্ভরতা কমাতে সরকারী নিদের্শনায় টাঙ্গাইলে বিভিন্ন উপজেলায় কৃষি বিভাগ যমুনার চরাঞ্চলে কালো জিরা চাষের উদ্যোগ নিয়েছে।

