ঈদ এলেই যানজটে থমকে যায় বরিশাল নগর

ছবিঃ আগামীর সময়
ঈদ এলেই বরিশাল নগরীর চেনা চিত্র হয়ে ওঠে তীব্র যানজট আর ভোগান্তি। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে যানজট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিটি করপোরেশনের কার্যকর কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায় নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল, চৌমাথা, সদর রোড, বাজার রোড, নতুন বাজার, চকবাজার, ফলপট্টি, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ, কাকলীর মোড় ও বটতলা এলাকায় যানজট লেগেই থাকছে। বিশেষ করে দুপুরে ও সন্ধ্যার পর শুরু হয় তীব্র যানজট। ঈদের কেনাকাটায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়, ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো এবং এলোমেলো গাড়ি পার্কিংয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। যানজট প্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যায় ভুগলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সিটি করপোরেশন। ঈদ এলে শহর যেন যানজটের নগরীতে পরিণত হয়। সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করতেও অনেক সময় লাগছে।
রিকশাচালক ও যাত্রীরা বলছেন, যানজটের কারণে যাত্রী কম পাচ্ছেন চালকরা, আবার যাত্রীদেরও গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে কয়েকগুণ। এতে ক্ষোভ বাড়ছে নগরবাসীর মধ্যে।
নগরীর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা সৌরভ মাহামুদ বলছেন, প্রতি বছর একই পরিস্থিতি তৈরি হলেও আগে ভাগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। ঈদকে সামনে রেখে যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
অমৃত লাল দে সড়কের বাসিন্দা জোহরা বেগম বলছিলেন, ঈদকে সামনে রেখে বিপণী বিতান বহুল এলাকাগুলোতে প্রচণ্ড চাপ থাকে কেনাকাটার। বিশেষ করে চকবাজার, বাজার রোড, সদর রোড, কাকলীর মোড় ও বটতলা এলাকায় মানুষের প্রচুর ভীর থাকে। আর সেই ভীর থাকার কারণেই যানবাহনের চাপটাও বেশ থাকে। এতে করে পুলিশের ট্রাফিক সেকশনও হিমশিম খায়। পুলিশ জনবল বৃদ্ধি ও পরিকল্পিত ভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা না করলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।
দক্ষিণ আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দা তাসফি রহমান জানালেন, কিছুদিন আগে চক বাজারে কেনাকাটা করতে তীব্র যানজটের কবলে পড়েন তিনি। কম করে হলেও ঘণ্টা খানেক আটকে ছিলেন যানজটের কারণে। তার ভাষ্য, বরিশাল নগরীতে অবৈধ যানবাহনের এই যানজটের অন্যতম কারণ। পাশাপাশি ঈদকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীর বাইরে থেকেও ব্যাটারিচালিত শত শত রিকশা নগরীতে প্রবেশ করে যানজটের সৃষ্টি করছে বলে মনে করছি।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি মিলন মন্ডল বলছেন, অপ্রশস্ত সড়ক ও নগরীর মধ্যে যে স্থাপনা আছে তাদের নিজস্ব কোন পার্কিং ব্যবস্থা নাই। তাছাড়া ভবনে ওঠা নামার জন্য জায়গা রাখে না। পুরো জায়গাজুড়ে স্থাপনা নির্মাণ করে। এছাড়া অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল তো আছেই। ফুটপাত দখলমুক্ত করলে আর অবৈধ পার্কিং রোধ করলে কিছুটা যানজট কমবে। তবে যানজটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সেডব্যাক আইন ১৯৯৬ ও বিএনডিসি কোড ২০০৬ মেনে স্থাপনা নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী অবশ্য বলছেন, যানজটের বিষয়টা দেখা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব। সিটি করপোরেশ অবৈধভাবে ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানালেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যানজট নিরসনে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

